Thursday, April 25, 2024

বন্ধু সমাচার। বন্ধুত্ব নিয়ে কিছু কথা।

বন্ধু সমাচার । বন্ধু বান্ধবের মাঝে আত্মার একটি সম্পর্ক গড়ে উঠে। সম্পর্ক টা গড়ে উঠতে অনেক অনেক সময় লাগে, অনেক ছাড় দিতে হয়, অনেক সময় নিজের ক্ষতি করেও বন্ধুর স্বার্থ ঠিক রাখতে হয়, বন্ধুত্বের মর্যাদা দিতে হয়। কত কত সময় যে জমপেশ আড্ডায়, গল্পে মজে পার হয়ে যায়। কত টাকা যে একে অন্যের জন্য খরচ করে তার হিসাবের কোন বালাই থাকে না। বন্ধুত্বের বন্ধন নামক ডায়রিতে কত হাজার হাজার ভাল মূহুর্ত, সময়, খুনসুটি, আবেগ মিশানো হাসি কান্না লিখা হয় তা বলা বাহুল্য। #mmc কিন্তু কারো কোন সামান্য ভুল বা একে অন্যের ভুল বোঝাবুঝির কারণে দীর্ঘ সময়ের পথ চলা নিমিষেই থমকে যায়, থমকে যায় সম্পর্ক, মিথ্যা হয়ে যায় সকল আবেগ, ভালো লাগা, ভালোবাসা, প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে একে অন্যকে, তুলে ধরা হয় অতীতের সকল ফিরিস্তি যা এতদিন বন্ধু নামের বন্ধনে ঢাকা ছিল। আমরা ভেবে দেখি না কার সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করছি, কার বিরুদ্ধে সমলোচনা করছি, কাকে বিপদে ফেলার ফন্দি আটছি। এইতো সে জিগরী দোস্ত! যাকে না দেখলে, যার সাথে কথা না হলে মনটা হাঁপিয়ে উঠতো, সময়টা যেন পারই হতে চাইতো না। নিজের মাঝে অস্থিরতা কাজ করতো, শূন্যতা তৈরি হতো। #mmc ভাবতেও অবাক লাগে, আমরা কেমনে হাজার হাজার অমূল্য কাটানো মূহুর্ত, সময়, খুনসুটি, আবেগ মিশানো হাসি কান্নাগুলো একপাশে রেখে কোন এক ঠুনকো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে একে অন্যের মাঝে কাদা ছোড়াছুড়ি করি, কেন রাগের কাছে বন্ধুত্বের বন্ধন ও ভালোবাসা হেরে যায়। আমরা এটা ভাবি না যে, আজকের আমিটা তো আমার একার প্রচেষ্টায় হয় নি, আমার যা কিছু অর্জন, সফলতা তার সমান অংশীদার তো আমার বন্ধুও। আমার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে কষ্ট, শ্রম, মেধা, ত্যাগ তো বন্ধুরাও করেছে। আমার মনে হয়, আমরা বড় ভুলটা করি একে অন্যের সাথে রাগ পোষে রেখে। রাগ থেকে ঘৃণা জন্ম নেয়, ঘৃণা হতে দূরত্ব তৈরি হয়। কোন এক সময় ঝগড়া সৃষ্টি হয়, একে অন্যের উপর সকল রাগ, ঘৃণা, অভিমান ও অদ্ভুত সব অভিযোগ উগরে দিই। ফলে বন্ধুত্বের বন্ধনটা ছিন্ন হয়, এমনকি একে অন্যের শত্রুতে পরিণত হয়। আসলে সমস্যাগুলো একে অন্যের সাথে সামান্য আলোচনাতেই মিঠে যেত। কিন্তু আমরা তখন ইগোকে সামনে নিয়ে আসি, ইগোর কাছে আমরা হেরে যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা অন্য এক বন্ধু যে সুন্দরভাবে বন্ধুত্বকে জোড়া লাগায়। অনেক সময় কারো কোন ভুল অনেক বড় হয়ে থাকে। ফলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, অনেক বিপদও ডেকে আনে, অনেক ক্ষতিও হয়ে যায়। তবে সব কিছু যাতে সুন্দরভাবে সমাধা হয় এটাই প্রত্যাশা করি। #mmc পরিশেষে, সকল বন্ধুকে ভালোবাসা জানায়। হয়তো জীবন ও জীবিকার তাগিদে, বাস্তবতা কাছে, দায়িত্বের ভারে বন্ধুর সময়টা অন্যকে দিতে হয়, আড্ডার সময়টায় অন্যজন ভাগ বসায়, হাসি-কান্না, আনন্দগুলো ভাগাভাগি হয় অন্যের সাথে, তৈরি হয় নতুন বন্ধুত্ব কিন্তু ভালো লাগা, ভালোবাসাটা অমলিন রয়ে যায়, স্মৃতিগুলো প্রতিনিয়ত নাড়া দেয়, মনকে আন্দোলিত করে, অমূল্য মূহুর্তগুলো বেঁচে থাকার অক্সিজেন হিসেবে কাজ করে। বেঁচে থাকুক সকল বন্ধন, ধুলো যেন না জমে স্মৃতিতে। ইগো মুক্ত হোক সকল প্রিয় মুখগুলো। শুভকামনা রইল সবার জন্য। বন্ধু সমাচার মোঃ মামুন চৌধুরী।

Thursday, January 2, 2020

পরীক্ষার ফলাফল কেন শিশুদের আত্মহত্যার দিকে নিয়ে যায়?

পরীক্ষার ফলাফল কেন শিশুদের আত্মহত্যার দিকে নিয়ে যায়? বাংলাদেশে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জিপিএ ফাইভ না পেয়ে অথবা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কারণে সম্প্রতি অন্তত তিনজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বরিশালে জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পাননি সেটা জানার পরই মঙ্গলবার বাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে নিজের প্রাণ নিয়েছেন ১৪-বছর বয়সী এক কিশোরী। তার পরিবারের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ব্যবসায়ী যাদব দাস বলছেন, "আমার বন্ধু খুব ভেঙে পরেছে। আল্লাহ একটাই সন্তান দিয়েছিলো তাকে। তাও বিয়ের দশ বছর পর। সুন্দরভাবে তাকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলো। কিন্তু দু:খজনক ব্যাপার গতকাল পরীক্ষায় রেজাল্ট শুনে স্কুলে কে তাকে কী বলেছে, কোন বান্ধবীরা কী বলেছে, সেটা শুনে সে সুইসাইড করেছে।" শরিয়তপুরের গোসাইঘাটে জেএসসি পরীক্ষায় পাস করতে না পেরে এক কিশোরী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে পরের ক্লাসে উঠতে না পেরে একই পথ বেছে নিয়েছেন এক কিশোর। পুলিশের বরাত দিয়ে এমনটাই জানা গেছে। প্রতি বছরই বড় কোন পরীক্ষার ফল প্রকাশের এমন খবর যায়। #পরীক্ষার ফল শিশুদের কেন এই পথে ঠেলে দিচ্ছে ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট ইশরাত শারমিন রহমান বলছেন, কিশোর বয়সী ছেলে-মেয়েরা বেশি আবেগপ্রবণ থাকে। অল্পতেই খুশি, দু:খ ও রাগ বোধ করা কিশোর বয়সের বৈশিষ্ট্য। পরীক্ষায় ব্যর্থতার পর পরিবারের সহযোগিতার অভাব, বরং উল্টো তাকে কটু কথা শোনানো, প্রতিবেশী, আত্মীয় ও সহপাঠীদের চাপও বড় কারণ। তিনি বলছেন, "এই যে বাচ্চাগুলো যখন পরীক্ষা ফেল করছে বা রেজাল্ট খারাপ হচ্ছে, বাবা-মা প্রচণ্ড বকাঝকা করছে। তিনি বলছেন, "অনেক সময় একটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটলেই বাচ্চারা সেটা শোনে বা কাগজে দেখে। তারা সেটা দেখে মোটিভেটেড হয়ে যায়। তারা ভাবে আমার মতো একজন যদি এটা করতে পারে তাহলে আমিও করতে পারি।" অনেক সময় তারা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যা বা তোর মতো সন্তান থাকার থেকে না থাকা ভালো ছিল। তারা এমনিতেই আবেগপ্রবণ। এই জিনিসগুলো তাদের আরও অনেক আবেগপ্রবণ করে ফেলে।" তিনি আরও বলছেন, "অনেক সময় রেগে গিয়ে বাবা-মাকে ভয় দেখানোর জন্য তারা এটা করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু যেহেতু তাদের বয়স কম। তাদের জানার ঘাটতি আছে যে কতটুকু করলে তারা বিপদে পরবে না। অনেক সময় যেটা হয় আত্মহত্যা করতে না চাইলেও, ঘটনাটা ঘটে যায়।" #পরীক্ষা পদ্ধতি কতটা দায়ী? পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ থেকে বড়জোর ১৫ বছর বয়সীরা। সমাপনী পরীক্ষা দুটি হয় জাতীয় পর্যায়ে যাতে সারা দেশের এই পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। বিভিন্ন গ্রেড দিয়ে মেধা যাচাই হয় যার মধ্যে সর্বোচ্চ হচ্ছে জিপিএ-ফাইভ। শিশুদের এক ধরনের প্রতিযোগিতার মধ্যে ঠেলে দেয়া হয়। ফেনির সোনাগাজি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিটুবি রানি গুহ বলছেন, "ছোট বয়সে তারা খেলাধুলা করবে। তাদের ভেতরে এই বয়সে খেলাধুলার আগ্রহটাই বেশি থাকে। একসাথে এত বড় একটি পরীক্ষায় অংশ নেয়া এবং তাতে ভাল ফল করার বিষয়টি এই বয়সে অনেক বড় মানসিক চাপ।" তিনি মনে করেন, অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষার এই ফল গরীব পরিবারের অনেককে চাকরি পেতে সহায়তা করে তবে পঞ্চম শ্রেণির এমন সমাপনী পরীক্ষার কোন প্রয়োজন নেই। এমন পরীক্ষা পদ্ধতি কতটা দরকার সে নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন অনেক দিনের। শিক্ষা নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থা এডুকো'র বিশেষজ্ঞ গোলাম কিবরিয়া বলছেন, "শিক্ষাটা এমন হওয়া উচিত যেখানে একটা জিনিস জানবে, চর্চা করবে, বন্ধুদের সাথে শিক্ষকদের সাথে এই বিষয় নিয়ে আলাপ করবে এবং সত্যিকার অর্থে কোন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করবে। "বরং কোচিং করে, গাইড বই পরে, প্রাইভেট পরে, মুখস্থ করে পরীক্ষা দিয়ে কত নম্বর পাওয়া যাবে সেজন্য সারা বছর কিছু শিশু শুধু পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়। নম্বর পাওয়ার এই পরীক্ষা কোন পদ্ধতি হতে পারে না।" তিনি আরও বলেন, ভাল ফল করার ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের উপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাপও কাজ করে। আর সেটি ঘটে সরকারি সহায়তা পাওয়ার জন্য। তার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলছেন, "স্কুল যেগুলো সেগুলো বেশিরভাগই এমপিও ভিত্তিক। ভালো বা খারাপ রেজাল্ট এমপিও ভুক্তির একটি বড় মাপকাঠি।" #সরকার কী পরিকল্পনা করছে? বাংলাদেশের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলছিলেন গ্রেডিং পদ্ধতির মাধ্যমে মেধা যাচাই সবচাইতে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কী কারণে এমন পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছিলো তার ব্যাখ্যা করে তিনি বলছেন, "সব দেশে এই বয়সী শিশুদের একটা অ্যসেসমন্ট হয় যে তারা কতটা স্কিলস্‌ অর্জন করলো। দুটো পরীক্ষার মাধ্যমে সেটা করা হচ্ছে। সেই কথা চিন্তা করে এই পদ্ধতি চালু করা হয়। কিন্তু আমরা এই পদ্ধতিকে কম্পিটিটিভ করে তুলেছি। গ্রেডিং পদ্ধতির একটা সাইড এফেক্ট হলও বাবা মায়েরা ছেলে-মেয়ের উপর ভালো ফলের জন্য চাপ দেয়। " তিনি বলছেন, এখন গ্রেডিং পদ্ধতিতে পরিবর্তন সহ এখন এই পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে চিন্তা করা হচ্ছে। শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়, শিশুরা জীবনে আগে বাড়ার জন্য কতটুকু সঠিক দক্ষতা অর্জন করেছে সেটির যাচাই সারাবছর ধরেই করার কথা বলছেন তিনি।

Tuesday, December 31, 2019

স্বাগতম ২০২০। তোমাকে বলছি টু-জিরো টু-জিরো।

তোমাকে বলছি টু-জিরো টু-জিরো তোমাকে বলছি ২০২০। আরে! তোমার নামটা তো সুন্দর: টু-জিরো টু-জিরো । কেমন আছ? উত্তর দিচ্ছ না, ক্ষতি নেই। সময়ই বলে দেবে। অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলা কষ্টকর। তারপরও এই ঝুঁকিটা নিচ্ছি। কারণ এই সাহসটা পেয়েছি তোমারই অগ্রজ ২০১৯-এর কাছ থেকে। তাকেও একদিন এমনি করে প্রশ্ন করেছিলাম। সেও তোমার মতো নিরুত্তর ছিল। তোমাকে বলতে চাই কতগুলো গোপন বেদনার কথা। জানো, একসময় আমিও মানুষ ছিলাম। কেন? তুমি কি এখন মানুষ না? হয়তো। কিন্তু সেই মানুষ না। তিনিই সেই মানুষ, যিনি সমস্ত পৃথিবীর হয়ে দুঃখ পান। নাফ ও রিও গ্রান্দের নদীতে অভিবাসী শিশুর লাশ ভাসতে দেখে আমি দুঃখ পাই না। এতটুকু কষ্ট পাই না যখন শিশু আয়লানের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখি ভূমধ্যসাগরের বেলাভূমিতে। অথবা বোমায় বিধ্বস্ত ভবনে একমাত্র বেঁচে যাওয়া শিশু ওমরানের চাক চাক রক্ত দেখে। এ জন্যই বলছিলাম, যিনি মানুষ তিনি সমস্ত পৃথিবীর হয়ে দুঃখ পান। দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বুয়েট। এর শেরেবাংলা হল। ২০১১ ও ২০০৫ নম্বর কক্ষ! এ দুটি কক্ষে আনা হলো মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। সেখানেই তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যিনি বাঁচতে চেয়েছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কই, আমি তো তাঁকে বাঁচাতে যাইনি। তাঁকে তো হাসপাতালেই নিইনি। তাঁর জন্য তো দুঃখ পাইনি। এবার তোমাকে বলতে চাই এক দুর্বৃত্ত অধ্যক্ষের কথা। তাঁর নামটা বড় খানদানি। বাংলার এক নবাবের নামে নাম। তাঁর ছিল এক সংশপ্তক ছাত্রী। নাম ছিল তার নুসরাত জাহান রাফি। প্রায়ই তিনি অশোভন আচরণ করতে চাইতেন নুসরাতের সঙ্গে। আর নুসরাত, প্রতিবারই এর প্রতিবাদ করত। একদিন সেই অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার নির্দেশে তাঁকে পুড়িয়ে হত্যা করা হলো! নুসরাতের শেষ উচ্চারণ ছিল, ‘শিক্ষক আমার গায়ে হাত দিয়েছে। শেষনিশ্বাস পর্যন্ত আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করব।’ আমার থেকে নিষ্ঠুর আর কে আছে বলো? নুসরাতকে জ্বলতে দেখেও বাঁচানোর জন্য এগিয়ে যাইনি। চোখ থেকে এক ফোঁটা জলও ঝরেনি। চারদিকে এত অন্যায়, অমানবিকতা দেখি। অত্যাচার, নিষ্ঠুরতা দেখি। গুম, খুন, হত্যা, ধর্ষণের কথা শুনি। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের কথা শুনি। এক কেজি পেঁয়াজের দাম হয় ২৪০ টাকা! সুদূর মিসরের পেঁয়াজ কিনে মনের দুঃখে রেললাইন ধরে বাসায় ফিরি। কই? আমি তো এসবের প্রতিবাদ করি না। লজ্জায় মাথা নত করি না। তাই তো তোমাকে বলছিলাম, একসময় আমিও মানুষ ছিলাম। দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে আগুন চকবাজারের চুড়িহাট্টায়। কিছুক্ষণের মধ্যে না–ফেরার দেশে চলে গেল ৭৮টি প্রাণ। একটু আগেই যাদের জীবন ছিল, একটু পরেই তারা হলো লাশ! জানো, টু-জিরো টু-জিরো? চাঁদের মতো ফুটফুটে দুটো মেয়ে ছিল। ফাতেমা তুজ জোহরা ও রেনুমা তাবাসসুম। তারা ছিল দারুণ বান্ধবী। চতুর্থ শ্রেণি থেকে একই স্কুলে পড়ত। কলেজজীবনে পড়েছে একই কলেজে। তাদের বন্ধুত্ব ছিল ইতিহাসে লিখে রাখার মতো। দুই বান্ধবীর জন্যই দুই পরিবারের মধ্যেও বন্ধুত্ব হয়েছিল। সেদিন শিল্পকলায় অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছিল রিকশায়। নিয়তি তাদের টেনে নিয়ে যায় চুড়িহাট্টায়। আর যায় কোথায়? মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেল দুটি অনিন্দ্যসুন্দর জীবন। পৃথিবীতে তারা বেঁচে ছিল একসঙ্গে। তারা হয়তো মরণও চেয়েছিল একসঙ্গে। হায়রে বিধাতা! সেদিন অনেক দিন পর দুই বান্ধবীর ছবি দেখে প্রায় কেঁদেই ফেলেছিলাম। এই প্রথম নিজেকে একটু একটু মানুষ মানুষ মনে হচ্ছিল। শোনো টু-জিরো টু-জিরো। অধৈর্য হয়ো না। তুমি কি ভাবছ আগুনের গল্প শেষ? না ভাই। আরও আছে। শেষ হলে যে বনানীর এফ আর টাওয়ার অভিশাপ দেবে। এফ আর টাওয়ারের আগুনও ছিল ভয়ংকর। এ আগুনে ১৯ জন মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। যে সময় তোমরা সঙ্গে কথা বলছি, ঠিক সে সময়ে প্রচণ্ড শীতে কাঁপছে সারা দেশ। গরিব মানুষ নিশ্চয়ই শীতে কষ্ট পাচ্ছে। আর আমি অনেকগুলো কাপড় পরেও বলছি, আহ কী শীত! কই, আমি তো এসব মানুষের জন্য কিছু করছি না। তাইতো তোমাকে বলছিলাম যে, আমি আর আগের মতো নেই। একবার ভাবো আমাদের শিশুদের কথা। তাদের শৈশব বলে কিছু নেই। তোমার জানার কথা না। আমরা তখন শৈশবে। আমরা জানি আমাদের শৈশব কত আনন্দের ছিল! সে সময় পড়ালেখা ছিল অকাজ। কাজ ছিল গ্রীষ্মের দুপুরে ঢিল ছুড়ে আম পাড়া। পাখি ধরা। নদীতে সাঁতার কাটা। ঘুড়ি ওড়ানো। দাঁড়িয়াবান্ধা, ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন আরও কত–কী খেলা। এ-পাড়ায় ও-পাড়ায় ঘোরাঘুরি। রাতে দাদি-নানির কাছে গল্প শোনা। জোনাকি ধরা। সে এক দারুণ সময়! এখনকার শিশুরা সেসব ভাবতেও পারবে না। আমরা বড়রা তাদের শৈশব কেড়ে নিচ্ছি। প্রচণ্ড শীতের ভোরে নিজের ওজন থেকে বেশি ওজনের বইয়ের বোঝা নিয়ে স্কুলে যায় শিশুরা। স্কুল থেকে থেকে কোচিং। কোচিং থেকে বাসায় ফিরে দেখে সোফায় বসে আছেন গৃহশিক্ষক। কেউ ভাবছে না পড়ালেখার মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ খেলাধুলা, আনন্দ-বিনোদন। অনেক দিন পর আজ আবার মনে পড়ছে সেই নিষ্পাপ দুটি শিশুর কথা। তারা ছিল আপন দুই ভাই। নাম ছিল অরণি ও আলভি। একদিন নিজের মা তাদের গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে! তাদের অপরাধ, পড়াশোনা রেখে একটু খেলতে চায়। এখনো হয়তো ঢাকার বনশ্রীর বাতাসে মিশে আছে তাদের মৃত্যুর গন্ধ। তুমিই বলো টু-জিরো টু-জিরো। কোনোভাবে এটা মেনে নেওয়া যায়? কিন্তু আমি তো নিয়েছি। শিশুদের শৈশব হরণ ও জিপিএ-৫-নির্ভর শিক্ষার জন্য আমার তো মন খারাপ হয় না। আমি তো একবারও প্রতিবাদ করি না। এ জন্যই তোমাকে বললাম, একসময় আমিও মানুষ ছিলাম। আরও অনেক কষ্টের কথা আছে। সব কি আর বলা যায়? আগে আমরা গরিব ছিলাম। কিন্তু আমাদের একজনের প্রতি অন্যজনের গভীর ভালোবাসা ছিল। মায়ামমতা ছিল। আবেগ–অনুভূতি ছিল। সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকতাম। এখন মধ্য আয়ের দেশ হতে যাচ্ছি। আমাদের ঐশ্বর্য বাড়ছে। কিন্তু কেড়ে নিচ্ছে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা। কাছে ও পাশে থাকার মানসিকতা। আমরা ক্রমে দূরে সরে যাচ্ছি। আগের সেই মায়ামমতা, কাছে আসা, পাশে থাকা, ভালোবাসা সব যেন হারিয়ে যাচ্ছে। মৃত্যুর চেয়ে বেদনার আর কী হয়? মৃত্যু হলো শব্দহীন জগতের প্রতিধ্বনি। এক নৈঃশব্দ্য জগৎ। সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ। আরও চলে গেলেন সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। চলে গেলেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী ব্যক্তিত্ব অজয় রায়, কবি আল মাহমুদ, নাট্যকার, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক মমতাজউদদীন আহমদ, একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজকর্মী পলান সরকারসহ আরও অনেক বিশিষ্টজন। বিদায়ের আগে একটু অনুরোধও করে রাখি তোমার কাছে, হে সময়। ২০১৮-১৯ আমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছে। তুমি ওদের মতো হয়ো না। তুমি ভালো হয়ে এসো। আপন হয়ে এসো। বন্ধু হয়ে এসো। তোমাকে নিয়ে যেন ২০২১-এর কাছে অভিযোগ করতে না হয়। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, মত-পথ হয়তো আলাদা। কিন্তু আমাদের দুঃখ, আমাদের অশ্রু, আমাদের আনন্দ, আমাদের রক্তের রং সব এক। স্রষ্টার কাছে সবাই সমান। কারও প্রতি তাঁর বৈষম্য নেই। জগতের সাবইকে দেখে রেখো। নতুন সময়, কাউকে কষ্ট দিয়ো না। এটুকু প্রার্থনা তোমার কাছে।

Monday, November 18, 2019

পারিবারিক সম্পর্ক সুন্দর রাখার ১০ উপায়।

পারিবারিক সম্পর্ক সুন্দর রাখার ১০ উপায় #১_ঝগড়া এড়িয়ে শান্ত থাকুন প্রায়ই কথায় কথায় এর সাথে ওর লেগে যায়, অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর কলহ বা সন্তানদের নিয়ে অথবা সন্তানদের মধ্যে৷ তা হতে পারে পেশাগত চাপ বা নিজেদের লাইফস্টাইল নিয়ে৷ কিংবা সংসারের নানা কাজ৷ তাই কিছুটা সচেতন হয়ে কথা বলুন, একজন উত্তেজিত হলে অন্যজন শান্ত থাকুন৷ সরাসরি বলতে গেলে, ঝগড়া এড়িয়ে চলুন৷ #২_কাজের স্বীকৃতি দিন দৈনন্দিন জীবনের অনেক কাজ থাকে, যা একজন হয়তো নিয়মিত করে চলেছে৷ কিন্তু সেকথা কখনো বলা হয়না বা স্বীকৃতি দেওয়া হয়না৷ যে যেটা নিয়মিত করছে তাকে মাঝে মধ্যে মুখে বলুন বা স্বীকৃতি দিন, কাজের সম্মান দেখান৷ স্বীকৃতি পেলে কে খুশি না হয়! তাছাড়া সংসারে সবাই সমান পারদর্শী নয়, তাই বলে কাউকে অবহেলা একেবারেই নয় ! #৩_কাজ ভাগাভাগি করে নিন সংসারের প্রয়োজনীয় কাজগুলো ভাগাভাগি করে নিন৷ কারো পেশাগত চাপ বা পড়াশোনার চাপ থাকলে সে সময়ে অন্য আরেকজন সে কাজটি করে ফেলুন৷ তবে এ নিয়ে অবশ্যই কথা বলুন রাতে খাবার টেবিলে অথবা সপ্তাহান্তে৷ সকালে তাড়াহুড়ো করে বাড়ি থেকে বের হবার আগে কখনো সিরিয়াস আলাপ নয় ! #৪_ব্যক্তিগত ইচ্ছে বা সখের মূল্য দিন পরিবারের সদস্যদের সখ বা ইচ্ছের মূল্য দিন৷ অবসর সময়ে কে কী করতে চায় অর্থাৎ গান, বাজনা, বই পড়া, ছবি আঁকা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা বা অন্য যা কিছুই হোক না কেন, এতে আগ্রহ দেখান৷ একজনের যা ভালো লাগে, অন্যের তা পছন্দ নাও হতে পারে৷ তাই বলে অসম্মান নয়৷ তবে প্রয়োজনে ভালো-মন্দ বুঝিয়ে বলা যেতে পারে৷ সবাই মিলে আলোচনা করে একে অপরের আগ্রহের কথা জানতে পারলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব৷ #৫_স্বামী-স্ত্রীর কলহ আধুনিক যুগের চাকরিজীবী স্বামী-স্ত্রীর কলহের ধরনও পালটে গেছে৷ তবে সন্তানদের সামনে মা-বাবা ঝগড়া করলে তা সন্তানদের ওপর বেশ প্রভাব ফেলে৷ তাই মা-বাবাকে দু’জনের ভেতরের কলহ নিজেদের ঘরেই মিটিয়ে ফেলতে হবে৷ সন্তানদের সামনে ঝগড়া নয়, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের সামনে ঝগড়া হলে শিশুমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা পরে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে৷ #৬_পারিবারিক দ্বন্দ্ব পারিবারিক দ্বন্দ্ব নেই – এমন পরিবার বোধহয় কমই আছে৷ নানা জনের নান মত থাকবেই৷ তাই মনের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব বা ভিন্ন মত হলে তা নিজের মধ্যে লুকিয়ে রেখে কষ্ট না পেয়ে খোলাখুলি স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন বা সকলে মিলে কথা বলুন৷ পারিবারিক দ্বন্দ্ব এড়াতে সবসময় সরাসরি আলোচনা করুন, কারণ এর কোনো বিকল্প নেই৷ #৭_জন্মদিন বা কোন উপলক্ষ্য জন্মদিন পালন করা পশ্চিমা বিশ্বের সংস্কৃতি হলেও আজকাল তা আমাদের দেশেও চলে এসেছে৷ জন্মদিন উদযাপন মানেই বিশাল আকারে পার্টি করা নয়৷ ছেলে-মেয়ে, বাবা-মা সবার জন্মদিনকে বিশেষভাবে, অর্থাৎ যার জন্মদিন তাকে পছন্দের ছোট কিছু দিয়ে সবাই মিলে পরিবারের মধ্যেই দিনটি উদযাপন করতে পারেন৷ পরিবারে যার জন্মদিন, তাকে বছরের এই দিনটিতে সুন্দর করে বুঝিয়ে দেয়া যে, পরিবারে তার মূল্য কারো চেয়ে কম নয়৷ #৮_অসুখ-বিসুখে বাড়তি যত্ন অসুখ-বিসুখে পরিবারের সদস্যরা একে অপরের প্রতি বিশেষ যত্ন নিন, বুঝিয়ে দিন অন্যদের সমবেদনার কথা৷ কিনে আনুন ফুল অথবা রোগীর পছন্দের মজার কোনো বই, যা রোগীকে আনন্দ দিতে পারে৷ কোনোভাবেই অবহেলা নয়, প্রয়োজনে নিজের কোনো কাজ ফেলে রেখে রোগীর দৃষ্টি আকর্ষণ করুন৷ #৯_সপ্তাহান্ত বা ছুটির দিন পরিবারের সবার কাছেই যেন মনে হয় দিনটি পরিবারের জন্য৷ একসাথে একটু বেশি সময় নিয়ে সকালের নাস্তা করুন৷ কারো অন্য কোন কাজ বা অন্যকিছু থাকলে সবাইকে জানিয়ে দিন, হঠাৎ করে বলবেন না ‘আমি বাইরে যাচ্ছি’৷ যার যে কাজই থাকুক না কেন, সবার যেন এই অনুভূতি হয় যে ‘আমরা সকলে সকলের’৷ বাইরে থেকে ফিরতে দেরি হলে অবশ্যই বাড়িতে ফোন করে জানিয়ে দিন৷ #১০_হলিডে বা ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা এ বছর কখন কোথায় বেড়াতে যাবেন কিংবা কোথাও যাওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে সবাই মিলে আলোচনা করুন৷ পরিবারের প্রতিটি সদস্যেরই মতামতের মূল্য রয়েছে – তা সবাইকে জানিয়ে দেয়া৷ হোক সে ছোট বা বড়৷ ছুটিতে গিয়ে দৈনন্দিন জীবনের সমস্ত চাপ ঝেড়ে আসুন, আনন্দ করুন, নতুন উদ্যম নিয়ে ফিরে আসুন৷ ভাবুন জীবন অনেক সুন্দর!

Wednesday, November 13, 2019

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঘড়ি, দাম ২৬২ কোটি টাকা

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঘড়ি, দাম ২৬২ কোটি টাকা ইতিহাস তৈরি হলো সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দামি ঘড়ির তকমা পেল সুইস কোম্পানি প্যাটেক ফিলিপের একটি ঘড়ি। ঘড়িটি দাম ওঠে বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ২,২৭ কোটি টাকা। শনিবার এই নিলামের আয়োজন করা হয়। বিলাসবহুল ঘড়ির কথা উঠলেই সবার আগে যে দেশটির নাম সামনে আসে সেটি হলো সুইজারল্যান্ড। সেই সুইৎজারল্যান্ডের অন্যতম ঘড়ি নির্মাতাপ্যাটেক ফিলিপ। শনিবার তারা একটি ঘড়ি নিলামের আয়োজন করে। নিলামে ‘প্যাটেক ফিলিপ গ্র্যান্ডমাস্টার চাইম রেফারেন্স ৬৩০০এ-০১০’ ঘড়িটির এই বিপুল দাম ওঠে। ডাচেন মাসকুলার ডেস্ট্রফি নামে একটি জিন ঘটিত রোগের চিকিত্সার গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে প্যাটেক ফিলিপ। সেই কারণেই এই ঘড়ি নিলামের আয়োজন করা হয়। সংস্থার প্রেসিডেন্ট থিয়েরি স্টের্ন বলেন, তারা আশা ছিল ১১০ কোটি টাকার মতো উঠে আসবে। কিন্তু তারা স্বপ্নেও ভাবেননি এত টাকা উঠবে নিলামে। ১৮৩৯ সাল থেকে ঘড়ি তৈরি করছে প্যাটেক ফিলিপ। তবে যে ঘড়িটি, বুর্জ খালিফায় দেড় হাজার স্কোয়ার ফুটের ৩২টি অ্যাপার্টমেন্ট বা রোলস রয়েস ফ্যান্টমের সেরা মডেলের ১১টি গাড়ির দামে বিক্রি হয়েছে সেটি কোম্পানির সব থেকে জটিল নক্সার ঘড়ি। এই হাতঘড়িতে রয়েছে ১৩৬৬টি ছোট বড় পার্টস ও ২১৪ কেস কম্পোনেন্ট। শুধু এর জটিল ডিজাইনই নয় স্টেনলেস স্টিলের এই ঘড়িটিতে রয়েছে ১৮ ক্যারেটের ‘রোজ গোল্ড’ কেস। ঘড়িতে ঘণ্টা মিনিট সেকেন্ডের পাশাপাশি পাওয়া যাবে দিন, মাস, বছরও। শুধু তাই নয় এই তারিখ লিপিয়ার হিসেব করে চলে।

Saturday, November 9, 2019

ঘূর্ণিঝড়ের সংকেতসমূহ: কোন সংকেতে কী বোঝায়

ঘূর্ণিঝড়: কোন সংকেতে কী বোঝায় ব্রিটিশ শাসনামলে তৈরি এই সংকেত ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক আধুনিক সংকেত ব্যবস্থা থেকে আলাদা। ঝড়ের গতি ও বিপদের সম্ভাব্য মাত্রা বিবেচনায় ১ থেকে ১১ নম্বর সংকেত দিয়ে এখানে সতর্কতার মাত্রা বোঝানো হয়। সনাতনী এ সংকেত ব্যবস্থা মূলত তৈরি করা হয়েছিল সমুদ্রগামী জাহাজ ও বন্দরের নিরাপত্তার জন্য। জনসাধারণের জন্য সতর্কবার্তার বিষয়টি সেখানে খুব একটা গুরুত্ব পায়নি তখন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তৈরি ছক সমুদ্রবন্দরে ঝড়ের সতর্ক বার্তা হিসেবে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত, ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত, ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত, ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেতের পর ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেত; ৮, ৯ ও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানো হয়। সর্বশেষ ১১ নম্বর দিয়ে বোঝানো হয়- যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পাশাপশি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য রয়েছে ১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত, ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত, ৩ নম্বর নৌ বিপদ সংকেত ও ৪ নম্বর নৌ মহাবিপদ সংকেত। সমুদ্রবন্দরের জন্য সংকেতগুলোর মধ্যে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের মাত্রা একই। আবার ৮, ৯ ও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতেরও মাত্রা এক। ঝড় কোন দিক দিয়ে যাবে তার ভিত্তিতে নম্বর আলাদা করা হয়, যদিও বিপদ সব ক্ষেত্রেই সমান। এর ফলে সাধারণের মধ্যে অনেক সময় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ মনে করে, সংকেত যত বেশি, বিপদ তত বড়। ফলে দ্রুততম সময়ে বিপদ সম্পর্কে সচেতন করার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এই সংকেত ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য গত আড়াই দশকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি সংকেত ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ে সুপারিশ জমা দিয়েছিল, তাও পরে আর বাস্তবায়ন হয়নি

Friday, November 8, 2019

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ কাল মধ্য রাতে আঘাত হানতে পারে

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ কাল মধ্য রাতে আঘাত হানতে পারে। ০৮/১১/২০১৯. ‘বুলবুল’ কাল মধ্য রাতে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। তাঁদের মতে, ঘূর্ণিঝড়টি কাল শনিবার মধ্যরাতের দিকে বাংলাদেশের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের ওপর আঘাত হানতে পারে। তবে উপকূলে আঘাত হানার আগে কিছুটা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। এ জন্য দেশের তিনটি সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারকে আজ শুক্রবার ভোর ছয়টা থেকে ৪ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে সাগরে চলাচল না করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান সম্পর্কে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আজ সকালে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৭৬৯ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি আরেকটু ডানদিকে ঘুরতে পারে। আমাদের যে পর্যবেক্ষণ, তাতে মনে হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়টি খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের ওপরে আঘাত আনবে। কাল শনিবার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানতে পারে।’ ঘূর্ণিঝড়টি কতটুকু শক্তিশালী হবে, এ বিষয়ে আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমাদের ধারণা, বাতাসের গতিবেগ সর্বোচ্চ ১৪৪ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে উপকূলে চলে আসার আগে ঘূর্ণিঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বাতাসের গতিবেগ উপকূলে আঘাত হানার সময় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকতে পারে।’ আবদুল মান্নান জানান, ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ২২৩ কিলোমিটার। তিনি বলেন, ‘বুলবুল’–এর কারণে দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। আজ বিকেলের পর উপকূলীয় অঞ্চলে হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হবে। তবে উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড়টি বয়ে যাওয়ার সময় বৃষ্টির মাত্রা আরও বাড়বে। রাজধানী ঢাকায়ও ঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি থাকতে পারে।