Monday, November 18, 2019

পারিবারিক সম্পর্ক সুন্দর রাখার ১০ উপায়।

পারিবারিক সম্পর্ক সুন্দর রাখার ১০ উপায় #১_ঝগড়া এড়িয়ে শান্ত থাকুন প্রায়ই কথায় কথায় এর সাথে ওর লেগে যায়, অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর কলহ বা সন্তানদের নিয়ে অথবা সন্তানদের মধ্যে৷ তা হতে পারে পেশাগত চাপ বা নিজেদের লাইফস্টাইল নিয়ে৷ কিংবা সংসারের নানা কাজ৷ তাই কিছুটা সচেতন হয়ে কথা বলুন, একজন উত্তেজিত হলে অন্যজন শান্ত থাকুন৷ সরাসরি বলতে গেলে, ঝগড়া এড়িয়ে চলুন৷ #২_কাজের স্বীকৃতি দিন দৈনন্দিন জীবনের অনেক কাজ থাকে, যা একজন হয়তো নিয়মিত করে চলেছে৷ কিন্তু সেকথা কখনো বলা হয়না বা স্বীকৃতি দেওয়া হয়না৷ যে যেটা নিয়মিত করছে তাকে মাঝে মধ্যে মুখে বলুন বা স্বীকৃতি দিন, কাজের সম্মান দেখান৷ স্বীকৃতি পেলে কে খুশি না হয়! তাছাড়া সংসারে সবাই সমান পারদর্শী নয়, তাই বলে কাউকে অবহেলা একেবারেই নয় ! #৩_কাজ ভাগাভাগি করে নিন সংসারের প্রয়োজনীয় কাজগুলো ভাগাভাগি করে নিন৷ কারো পেশাগত চাপ বা পড়াশোনার চাপ থাকলে সে সময়ে অন্য আরেকজন সে কাজটি করে ফেলুন৷ তবে এ নিয়ে অবশ্যই কথা বলুন রাতে খাবার টেবিলে অথবা সপ্তাহান্তে৷ সকালে তাড়াহুড়ো করে বাড়ি থেকে বের হবার আগে কখনো সিরিয়াস আলাপ নয় ! #৪_ব্যক্তিগত ইচ্ছে বা সখের মূল্য দিন পরিবারের সদস্যদের সখ বা ইচ্ছের মূল্য দিন৷ অবসর সময়ে কে কী করতে চায় অর্থাৎ গান, বাজনা, বই পড়া, ছবি আঁকা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা বা অন্য যা কিছুই হোক না কেন, এতে আগ্রহ দেখান৷ একজনের যা ভালো লাগে, অন্যের তা পছন্দ নাও হতে পারে৷ তাই বলে অসম্মান নয়৷ তবে প্রয়োজনে ভালো-মন্দ বুঝিয়ে বলা যেতে পারে৷ সবাই মিলে আলোচনা করে একে অপরের আগ্রহের কথা জানতে পারলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব৷ #৫_স্বামী-স্ত্রীর কলহ আধুনিক যুগের চাকরিজীবী স্বামী-স্ত্রীর কলহের ধরনও পালটে গেছে৷ তবে সন্তানদের সামনে মা-বাবা ঝগড়া করলে তা সন্তানদের ওপর বেশ প্রভাব ফেলে৷ তাই মা-বাবাকে দু’জনের ভেতরের কলহ নিজেদের ঘরেই মিটিয়ে ফেলতে হবে৷ সন্তানদের সামনে ঝগড়া নয়, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের সামনে ঝগড়া হলে শিশুমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা পরে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে৷ #৬_পারিবারিক দ্বন্দ্ব পারিবারিক দ্বন্দ্ব নেই – এমন পরিবার বোধহয় কমই আছে৷ নানা জনের নান মত থাকবেই৷ তাই মনের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব বা ভিন্ন মত হলে তা নিজের মধ্যে লুকিয়ে রেখে কষ্ট না পেয়ে খোলাখুলি স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন বা সকলে মিলে কথা বলুন৷ পারিবারিক দ্বন্দ্ব এড়াতে সবসময় সরাসরি আলোচনা করুন, কারণ এর কোনো বিকল্প নেই৷ #৭_জন্মদিন বা কোন উপলক্ষ্য জন্মদিন পালন করা পশ্চিমা বিশ্বের সংস্কৃতি হলেও আজকাল তা আমাদের দেশেও চলে এসেছে৷ জন্মদিন উদযাপন মানেই বিশাল আকারে পার্টি করা নয়৷ ছেলে-মেয়ে, বাবা-মা সবার জন্মদিনকে বিশেষভাবে, অর্থাৎ যার জন্মদিন তাকে পছন্দের ছোট কিছু দিয়ে সবাই মিলে পরিবারের মধ্যেই দিনটি উদযাপন করতে পারেন৷ পরিবারে যার জন্মদিন, তাকে বছরের এই দিনটিতে সুন্দর করে বুঝিয়ে দেয়া যে, পরিবারে তার মূল্য কারো চেয়ে কম নয়৷ #৮_অসুখ-বিসুখে বাড়তি যত্ন অসুখ-বিসুখে পরিবারের সদস্যরা একে অপরের প্রতি বিশেষ যত্ন নিন, বুঝিয়ে দিন অন্যদের সমবেদনার কথা৷ কিনে আনুন ফুল অথবা রোগীর পছন্দের মজার কোনো বই, যা রোগীকে আনন্দ দিতে পারে৷ কোনোভাবেই অবহেলা নয়, প্রয়োজনে নিজের কোনো কাজ ফেলে রেখে রোগীর দৃষ্টি আকর্ষণ করুন৷ #৯_সপ্তাহান্ত বা ছুটির দিন পরিবারের সবার কাছেই যেন মনে হয় দিনটি পরিবারের জন্য৷ একসাথে একটু বেশি সময় নিয়ে সকালের নাস্তা করুন৷ কারো অন্য কোন কাজ বা অন্যকিছু থাকলে সবাইকে জানিয়ে দিন, হঠাৎ করে বলবেন না ‘আমি বাইরে যাচ্ছি’৷ যার যে কাজই থাকুক না কেন, সবার যেন এই অনুভূতি হয় যে ‘আমরা সকলে সকলের’৷ বাইরে থেকে ফিরতে দেরি হলে অবশ্যই বাড়িতে ফোন করে জানিয়ে দিন৷ #১০_হলিডে বা ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা এ বছর কখন কোথায় বেড়াতে যাবেন কিংবা কোথাও যাওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে সবাই মিলে আলোচনা করুন৷ পরিবারের প্রতিটি সদস্যেরই মতামতের মূল্য রয়েছে – তা সবাইকে জানিয়ে দেয়া৷ হোক সে ছোট বা বড়৷ ছুটিতে গিয়ে দৈনন্দিন জীবনের সমস্ত চাপ ঝেড়ে আসুন, আনন্দ করুন, নতুন উদ্যম নিয়ে ফিরে আসুন৷ ভাবুন জীবন অনেক সুন্দর!

Wednesday, November 13, 2019

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঘড়ি, দাম ২৬২ কোটি টাকা

বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঘড়ি, দাম ২৬২ কোটি টাকা ইতিহাস তৈরি হলো সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দামি ঘড়ির তকমা পেল সুইস কোম্পানি প্যাটেক ফিলিপের একটি ঘড়ি। ঘড়িটি দাম ওঠে বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ২,২৭ কোটি টাকা। শনিবার এই নিলামের আয়োজন করা হয়। বিলাসবহুল ঘড়ির কথা উঠলেই সবার আগে যে দেশটির নাম সামনে আসে সেটি হলো সুইজারল্যান্ড। সেই সুইৎজারল্যান্ডের অন্যতম ঘড়ি নির্মাতাপ্যাটেক ফিলিপ। শনিবার তারা একটি ঘড়ি নিলামের আয়োজন করে। নিলামে ‘প্যাটেক ফিলিপ গ্র্যান্ডমাস্টার চাইম রেফারেন্স ৬৩০০এ-০১০’ ঘড়িটির এই বিপুল দাম ওঠে। ডাচেন মাসকুলার ডেস্ট্রফি নামে একটি জিন ঘটিত রোগের চিকিত্সার গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে প্যাটেক ফিলিপ। সেই কারণেই এই ঘড়ি নিলামের আয়োজন করা হয়। সংস্থার প্রেসিডেন্ট থিয়েরি স্টের্ন বলেন, তারা আশা ছিল ১১০ কোটি টাকার মতো উঠে আসবে। কিন্তু তারা স্বপ্নেও ভাবেননি এত টাকা উঠবে নিলামে। ১৮৩৯ সাল থেকে ঘড়ি তৈরি করছে প্যাটেক ফিলিপ। তবে যে ঘড়িটি, বুর্জ খালিফায় দেড় হাজার স্কোয়ার ফুটের ৩২টি অ্যাপার্টমেন্ট বা রোলস রয়েস ফ্যান্টমের সেরা মডেলের ১১টি গাড়ির দামে বিক্রি হয়েছে সেটি কোম্পানির সব থেকে জটিল নক্সার ঘড়ি। এই হাতঘড়িতে রয়েছে ১৩৬৬টি ছোট বড় পার্টস ও ২১৪ কেস কম্পোনেন্ট। শুধু এর জটিল ডিজাইনই নয় স্টেনলেস স্টিলের এই ঘড়িটিতে রয়েছে ১৮ ক্যারেটের ‘রোজ গোল্ড’ কেস। ঘড়িতে ঘণ্টা মিনিট সেকেন্ডের পাশাপাশি পাওয়া যাবে দিন, মাস, বছরও। শুধু তাই নয় এই তারিখ লিপিয়ার হিসেব করে চলে।

Saturday, November 9, 2019

ঘূর্ণিঝড়ের সংকেতসমূহ: কোন সংকেতে কী বোঝায়

ঘূর্ণিঝড়: কোন সংকেতে কী বোঝায় ব্রিটিশ শাসনামলে তৈরি এই সংকেত ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক আধুনিক সংকেত ব্যবস্থা থেকে আলাদা। ঝড়ের গতি ও বিপদের সম্ভাব্য মাত্রা বিবেচনায় ১ থেকে ১১ নম্বর সংকেত দিয়ে এখানে সতর্কতার মাত্রা বোঝানো হয়। সনাতনী এ সংকেত ব্যবস্থা মূলত তৈরি করা হয়েছিল সমুদ্রগামী জাহাজ ও বন্দরের নিরাপত্তার জন্য। জনসাধারণের জন্য সতর্কবার্তার বিষয়টি সেখানে খুব একটা গুরুত্ব পায়নি তখন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তৈরি ছক সমুদ্রবন্দরে ঝড়ের সতর্ক বার্তা হিসেবে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত, ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত, ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত, ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেতের পর ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেত; ৮, ৯ ও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানো হয়। সর্বশেষ ১১ নম্বর দিয়ে বোঝানো হয়- যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। পাশাপশি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য রয়েছে ১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত, ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত, ৩ নম্বর নৌ বিপদ সংকেত ও ৪ নম্বর নৌ মহাবিপদ সংকেত। সমুদ্রবন্দরের জন্য সংকেতগুলোর মধ্যে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের মাত্রা একই। আবার ৮, ৯ ও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতেরও মাত্রা এক। ঝড় কোন দিক দিয়ে যাবে তার ভিত্তিতে নম্বর আলাদা করা হয়, যদিও বিপদ সব ক্ষেত্রেই সমান। এর ফলে সাধারণের মধ্যে অনেক সময় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ মনে করে, সংকেত যত বেশি, বিপদ তত বড়। ফলে দ্রুততম সময়ে বিপদ সম্পর্কে সচেতন করার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এই সংকেত ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য গত আড়াই দশকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি সংকেত ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ে সুপারিশ জমা দিয়েছিল, তাও পরে আর বাস্তবায়ন হয়নি

Friday, November 8, 2019

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ কাল মধ্য রাতে আঘাত হানতে পারে

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ কাল মধ্য রাতে আঘাত হানতে পারে। ০৮/১১/২০১৯. ‘বুলবুল’ কাল মধ্য রাতে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। তাঁদের মতে, ঘূর্ণিঝড়টি কাল শনিবার মধ্যরাতের দিকে বাংলাদেশের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের ওপর আঘাত হানতে পারে। তবে উপকূলে আঘাত হানার আগে কিছুটা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। এ জন্য দেশের তিনটি সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারকে আজ শুক্রবার ভোর ছয়টা থেকে ৪ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে সাগরে চলাচল না করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান সম্পর্কে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আজ সকালে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৭৬৯ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি আরেকটু ডানদিকে ঘুরতে পারে। আমাদের যে পর্যবেক্ষণ, তাতে মনে হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়টি খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের ওপরে আঘাত আনবে। কাল শনিবার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানতে পারে।’ ঘূর্ণিঝড়টি কতটুকু শক্তিশালী হবে, এ বিষয়ে আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমাদের ধারণা, বাতাসের গতিবেগ সর্বোচ্চ ১৪৪ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে উপকূলে চলে আসার আগে ঘূর্ণিঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বাতাসের গতিবেগ উপকূলে আঘাত হানার সময় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকতে পারে।’ আবদুল মান্নান জানান, ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ২২৩ কিলোমিটার। তিনি বলেন, ‘বুলবুল’–এর কারণে দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। আজ বিকেলের পর উপকূলীয় অঞ্চলে হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হবে। তবে উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড়টি বয়ে যাওয়ার সময় বৃষ্টির মাত্রা আরও বাড়বে। রাজধানী ঢাকায়ও ঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি থাকতে পারে।