Tuesday, December 31, 2019
স্বাগতম ২০২০। তোমাকে বলছি টু-জিরো টু-জিরো।
তোমাকে বলছি টু-জিরো টু-জিরো
তোমাকে বলছি ২০২০। আরে! তোমার নামটা তো সুন্দর: টু-জিরো টু-জিরো । কেমন আছ? উত্তর দিচ্ছ না, ক্ষতি নেই। সময়ই বলে দেবে। অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলা কষ্টকর। তারপরও এই ঝুঁকিটা নিচ্ছি। কারণ এই সাহসটা পেয়েছি তোমারই অগ্রজ ২০১৯-এর কাছ থেকে। তাকেও একদিন এমনি করে প্রশ্ন করেছিলাম। সেও তোমার মতো নিরুত্তর ছিল। তোমাকে বলতে চাই কতগুলো গোপন বেদনার কথা। জানো, একসময় আমিও মানুষ ছিলাম। কেন? তুমি কি এখন মানুষ না? হয়তো। কিন্তু সেই মানুষ না। তিনিই সেই মানুষ, যিনি সমস্ত পৃথিবীর হয়ে দুঃখ পান।
নাফ ও রিও গ্রান্দের নদীতে অভিবাসী শিশুর লাশ ভাসতে দেখে আমি দুঃখ পাই না। এতটুকু কষ্ট পাই না যখন শিশু আয়লানের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখি ভূমধ্যসাগরের বেলাভূমিতে। অথবা বোমায় বিধ্বস্ত ভবনে একমাত্র বেঁচে যাওয়া শিশু ওমরানের চাক চাক রক্ত দেখে। এ জন্যই বলছিলাম, যিনি মানুষ তিনি সমস্ত পৃথিবীর হয়ে দুঃখ পান।
দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বুয়েট। এর শেরেবাংলা হল। ২০১১ ও ২০০৫ নম্বর কক্ষ! এ দুটি কক্ষে আনা হলো মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। সেখানেই তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হলো। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যিনি বাঁচতে চেয়েছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কই, আমি তো তাঁকে বাঁচাতে যাইনি। তাঁকে তো হাসপাতালেই নিইনি। তাঁর জন্য তো দুঃখ পাইনি।
এবার তোমাকে বলতে চাই এক দুর্বৃত্ত অধ্যক্ষের কথা। তাঁর নামটা বড় খানদানি। বাংলার এক নবাবের নামে নাম। তাঁর ছিল এক সংশপ্তক ছাত্রী। নাম ছিল তার নুসরাত জাহান রাফি। প্রায়ই তিনি অশোভন আচরণ করতে চাইতেন নুসরাতের সঙ্গে। আর নুসরাত, প্রতিবারই এর প্রতিবাদ করত। একদিন সেই অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার নির্দেশে তাঁকে পুড়িয়ে হত্যা করা হলো! নুসরাতের শেষ উচ্চারণ ছিল, ‘শিক্ষক আমার গায়ে হাত দিয়েছে। শেষনিশ্বাস পর্যন্ত আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করব।’
আমার থেকে নিষ্ঠুর আর কে আছে বলো? নুসরাতকে জ্বলতে দেখেও বাঁচানোর জন্য এগিয়ে যাইনি। চোখ থেকে এক ফোঁটা জলও ঝরেনি।
চারদিকে এত অন্যায়, অমানবিকতা দেখি। অত্যাচার, নিষ্ঠুরতা দেখি। গুম, খুন, হত্যা, ধর্ষণের কথা শুনি। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের কথা শুনি। এক কেজি পেঁয়াজের দাম হয় ২৪০ টাকা! সুদূর মিসরের পেঁয়াজ কিনে মনের দুঃখে রেললাইন ধরে বাসায় ফিরি। কই? আমি তো এসবের প্রতিবাদ করি না। লজ্জায় মাথা নত করি না। তাই তো তোমাকে বলছিলাম, একসময় আমিও মানুষ ছিলাম।
দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে আগুন চকবাজারের চুড়িহাট্টায়। কিছুক্ষণের মধ্যে না–ফেরার দেশে চলে গেল ৭৮টি প্রাণ। একটু আগেই যাদের জীবন ছিল, একটু পরেই তারা হলো লাশ! জানো, টু-জিরো টু-জিরো? চাঁদের মতো ফুটফুটে দুটো মেয়ে ছিল। ফাতেমা তুজ জোহরা ও রেনুমা তাবাসসুম। তারা ছিল দারুণ বান্ধবী। চতুর্থ শ্রেণি থেকে একই স্কুলে পড়ত। কলেজজীবনে পড়েছে একই কলেজে। তাদের বন্ধুত্ব ছিল ইতিহাসে লিখে রাখার মতো। দুই বান্ধবীর জন্যই দুই পরিবারের মধ্যেও বন্ধুত্ব হয়েছিল।
সেদিন শিল্পকলায় অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরছিল রিকশায়। নিয়তি তাদের টেনে নিয়ে যায় চুড়িহাট্টায়। আর যায় কোথায়? মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেল দুটি অনিন্দ্যসুন্দর জীবন। পৃথিবীতে তারা বেঁচে ছিল একসঙ্গে। তারা হয়তো মরণও চেয়েছিল একসঙ্গে। হায়রে বিধাতা!
সেদিন অনেক দিন পর দুই বান্ধবীর ছবি দেখে প্রায় কেঁদেই ফেলেছিলাম। এই প্রথম নিজেকে একটু একটু মানুষ মানুষ মনে হচ্ছিল।
শোনো টু-জিরো টু-জিরো। অধৈর্য হয়ো না। তুমি কি ভাবছ আগুনের গল্প শেষ? না ভাই। আরও আছে। শেষ হলে যে বনানীর এফ আর টাওয়ার অভিশাপ দেবে। এফ আর টাওয়ারের আগুনও ছিল ভয়ংকর। এ আগুনে ১৯ জন মানুষের প্রাণ গিয়েছিল।
যে সময় তোমরা সঙ্গে কথা বলছি, ঠিক সে সময়ে প্রচণ্ড শীতে কাঁপছে সারা দেশ। গরিব মানুষ নিশ্চয়ই শীতে কষ্ট পাচ্ছে। আর আমি অনেকগুলো কাপড় পরেও বলছি, আহ কী শীত! কই, আমি তো এসব মানুষের জন্য কিছু করছি না। তাইতো তোমাকে বলছিলাম যে, আমি আর আগের মতো নেই।
একবার ভাবো আমাদের শিশুদের কথা। তাদের শৈশব বলে কিছু নেই। তোমার জানার কথা না। আমরা তখন শৈশবে। আমরা জানি আমাদের শৈশব কত আনন্দের ছিল! সে সময় পড়ালেখা ছিল অকাজ। কাজ ছিল গ্রীষ্মের দুপুরে ঢিল ছুড়ে আম পাড়া। পাখি ধরা। নদীতে সাঁতার কাটা। ঘুড়ি ওড়ানো। দাঁড়িয়াবান্ধা, ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন আরও কত–কী খেলা। এ-পাড়ায় ও-পাড়ায় ঘোরাঘুরি। রাতে দাদি-নানির কাছে গল্প শোনা। জোনাকি ধরা। সে এক দারুণ সময়! এখনকার শিশুরা সেসব ভাবতেও পারবে না।
আমরা বড়রা তাদের শৈশব কেড়ে নিচ্ছি। প্রচণ্ড শীতের ভোরে নিজের ওজন থেকে বেশি ওজনের বইয়ের বোঝা নিয়ে স্কুলে যায় শিশুরা। স্কুল থেকে থেকে কোচিং। কোচিং থেকে বাসায় ফিরে দেখে সোফায় বসে আছেন গৃহশিক্ষক।
কেউ ভাবছে না পড়ালেখার মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ খেলাধুলা, আনন্দ-বিনোদন। অনেক দিন পর আজ আবার মনে পড়ছে সেই নিষ্পাপ দুটি শিশুর কথা। তারা ছিল আপন দুই ভাই। নাম ছিল অরণি ও আলভি। একদিন নিজের মা তাদের গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে! তাদের অপরাধ, পড়াশোনা রেখে একটু খেলতে চায়। এখনো হয়তো ঢাকার বনশ্রীর বাতাসে মিশে আছে তাদের মৃত্যুর গন্ধ।
তুমিই বলো টু-জিরো টু-জিরো। কোনোভাবে এটা মেনে নেওয়া যায়? কিন্তু আমি তো নিয়েছি। শিশুদের শৈশব হরণ ও জিপিএ-৫-নির্ভর শিক্ষার জন্য আমার তো মন খারাপ হয় না। আমি তো একবারও প্রতিবাদ করি না। এ জন্যই তোমাকে বললাম, একসময় আমিও মানুষ ছিলাম।
আরও অনেক কষ্টের কথা আছে। সব কি আর বলা যায়?
আগে আমরা গরিব ছিলাম। কিন্তু আমাদের একজনের প্রতি অন্যজনের গভীর ভালোবাসা ছিল। মায়ামমতা ছিল। আবেগ–অনুভূতি ছিল। সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকতাম।
এখন মধ্য আয়ের দেশ হতে যাচ্ছি। আমাদের ঐশ্বর্য বাড়ছে। কিন্তু কেড়ে নিচ্ছে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, সহমর্মিতা। কাছে ও পাশে থাকার মানসিকতা। আমরা ক্রমে দূরে সরে যাচ্ছি। আগের সেই মায়ামমতা, কাছে আসা, পাশে থাকা, ভালোবাসা সব যেন হারিয়ে যাচ্ছে।
মৃত্যুর চেয়ে বেদনার আর কী হয়? মৃত্যু হলো শব্দহীন জগতের প্রতিধ্বনি। এক নৈঃশব্দ্য জগৎ। সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ। আরও চলে গেলেন সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা। চলে গেলেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ী ব্যক্তিত্ব অজয় রায়, কবি আল মাহমুদ, নাট্যকার, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক মমতাজউদদীন আহমদ, একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজকর্মী পলান সরকারসহ আরও অনেক বিশিষ্টজন।
বিদায়ের আগে একটু অনুরোধও করে রাখি তোমার কাছে, হে সময়। ২০১৮-১৯ আমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছে। তুমি ওদের মতো হয়ো না। তুমি ভালো হয়ে এসো। আপন হয়ে এসো। বন্ধু হয়ে এসো। তোমাকে নিয়ে যেন ২০২১-এর কাছে অভিযোগ করতে না হয়।
আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, মত-পথ হয়তো আলাদা। কিন্তু আমাদের দুঃখ, আমাদের অশ্রু, আমাদের আনন্দ, আমাদের রক্তের রং সব এক। স্রষ্টার কাছে সবাই সমান। কারও প্রতি তাঁর বৈষম্য নেই। জগতের সাবইকে দেখে রেখো। নতুন সময়, কাউকে কষ্ট দিয়ো না। এটুকু প্রার্থনা তোমার কাছে।

Monday, November 18, 2019
পারিবারিক সম্পর্ক সুন্দর রাখার ১০ উপায়।
পারিবারিক সম্পর্ক সুন্দর রাখার ১০ উপায়
#১_ঝগড়া এড়িয়ে শান্ত থাকুন
প্রায়ই কথায় কথায় এর সাথে ওর লেগে যায়, অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর কলহ বা সন্তানদের নিয়ে অথবা সন্তানদের মধ্যে৷ তা হতে পারে পেশাগত চাপ বা নিজেদের লাইফস্টাইল নিয়ে৷ কিংবা সংসারের নানা কাজ৷ তাই কিছুটা সচেতন হয়ে কথা বলুন, একজন উত্তেজিত হলে অন্যজন শান্ত থাকুন৷ সরাসরি বলতে গেলে, ঝগড়া এড়িয়ে চলুন৷
#২_কাজের স্বীকৃতি দিন
দৈনন্দিন জীবনের অনেক কাজ থাকে, যা একজন হয়তো নিয়মিত করে চলেছে৷ কিন্তু সেকথা কখনো বলা হয়না বা স্বীকৃতি দেওয়া হয়না৷ যে যেটা নিয়মিত করছে তাকে মাঝে মধ্যে মুখে বলুন বা স্বীকৃতি দিন, কাজের সম্মান দেখান৷ স্বীকৃতি পেলে কে খুশি না হয়! তাছাড়া সংসারে সবাই সমান পারদর্শী নয়, তাই বলে কাউকে অবহেলা একেবারেই নয় !
#৩_কাজ ভাগাভাগি করে নিন
সংসারের প্রয়োজনীয় কাজগুলো ভাগাভাগি করে নিন৷ কারো পেশাগত চাপ বা পড়াশোনার চাপ থাকলে সে সময়ে অন্য আরেকজন সে কাজটি করে ফেলুন৷ তবে এ নিয়ে অবশ্যই কথা বলুন রাতে খাবার টেবিলে অথবা সপ্তাহান্তে৷ সকালে তাড়াহুড়ো করে বাড়ি থেকে বের হবার আগে কখনো সিরিয়াস আলাপ নয় !
#৪_ব্যক্তিগত ইচ্ছে বা সখের মূল্য দিন
পরিবারের সদস্যদের সখ বা ইচ্ছের মূল্য দিন৷ অবসর সময়ে কে কী করতে চায় অর্থাৎ গান, বাজনা, বই পড়া, ছবি আঁকা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা বা অন্য যা কিছুই হোক না কেন, এতে আগ্রহ দেখান৷ একজনের যা ভালো লাগে, অন্যের তা পছন্দ নাও হতে পারে৷ তাই বলে অসম্মান নয়৷ তবে প্রয়োজনে ভালো-মন্দ বুঝিয়ে বলা যেতে পারে৷ সবাই মিলে আলোচনা করে একে অপরের আগ্রহের কথা জানতে পারলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব৷
#৫_স্বামী-স্ত্রীর কলহ
আধুনিক যুগের চাকরিজীবী স্বামী-স্ত্রীর কলহের ধরনও পালটে গেছে৷ তবে সন্তানদের সামনে মা-বাবা ঝগড়া করলে তা সন্তানদের ওপর বেশ প্রভাব ফেলে৷ তাই মা-বাবাকে দু’জনের ভেতরের কলহ নিজেদের ঘরেই মিটিয়ে ফেলতে হবে৷ সন্তানদের সামনে ঝগড়া নয়, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের সামনে ঝগড়া হলে শিশুমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা পরে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে৷
#৬_পারিবারিক দ্বন্দ্ব
পারিবারিক দ্বন্দ্ব নেই – এমন পরিবার বোধহয় কমই আছে৷ নানা জনের নান মত থাকবেই৷ তাই মনের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব বা ভিন্ন মত হলে তা নিজের মধ্যে লুকিয়ে রেখে কষ্ট না পেয়ে খোলাখুলি স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন বা সকলে মিলে কথা বলুন৷ পারিবারিক দ্বন্দ্ব এড়াতে সবসময় সরাসরি আলোচনা করুন, কারণ এর কোনো বিকল্প নেই৷
#৭_জন্মদিন বা কোন উপলক্ষ্য
জন্মদিন পালন করা পশ্চিমা বিশ্বের সংস্কৃতি হলেও আজকাল তা আমাদের দেশেও চলে এসেছে৷ জন্মদিন উদযাপন মানেই বিশাল আকারে পার্টি করা নয়৷ ছেলে-মেয়ে, বাবা-মা সবার জন্মদিনকে বিশেষভাবে, অর্থাৎ যার জন্মদিন তাকে পছন্দের ছোট কিছু দিয়ে সবাই মিলে পরিবারের মধ্যেই দিনটি উদযাপন করতে পারেন৷ পরিবারে যার জন্মদিন, তাকে বছরের এই দিনটিতে সুন্দর করে বুঝিয়ে দেয়া যে, পরিবারে তার মূল্য কারো চেয়ে কম নয়৷
#৮_অসুখ-বিসুখে বাড়তি যত্ন
অসুখ-বিসুখে পরিবারের সদস্যরা একে অপরের প্রতি বিশেষ যত্ন নিন, বুঝিয়ে দিন অন্যদের সমবেদনার কথা৷ কিনে আনুন ফুল অথবা রোগীর পছন্দের মজার কোনো বই, যা রোগীকে আনন্দ দিতে পারে৷ কোনোভাবেই অবহেলা নয়, প্রয়োজনে নিজের কোনো কাজ ফেলে রেখে রোগীর দৃষ্টি আকর্ষণ করুন৷
#৯_সপ্তাহান্ত বা ছুটির দিন
পরিবারের সবার কাছেই যেন মনে হয় দিনটি পরিবারের জন্য৷ একসাথে একটু বেশি সময় নিয়ে সকালের নাস্তা করুন৷ কারো অন্য কোন কাজ বা অন্যকিছু থাকলে সবাইকে জানিয়ে দিন, হঠাৎ করে বলবেন না ‘আমি বাইরে যাচ্ছি’৷ যার যে কাজই থাকুক না কেন, সবার যেন এই অনুভূতি হয় যে ‘আমরা সকলে সকলের’৷ বাইরে থেকে ফিরতে দেরি হলে অবশ্যই বাড়িতে ফোন করে জানিয়ে দিন৷
#১০_হলিডে বা ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা
এ বছর কখন কোথায় বেড়াতে যাবেন কিংবা কোথাও যাওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে সবাই মিলে আলোচনা করুন৷ পরিবারের প্রতিটি সদস্যেরই মতামতের মূল্য রয়েছে – তা সবাইকে জানিয়ে দেয়া৷ হোক সে ছোট বা বড়৷ ছুটিতে গিয়ে দৈনন্দিন জীবনের সমস্ত চাপ ঝেড়ে আসুন, আনন্দ করুন, নতুন উদ্যম নিয়ে ফিরে আসুন৷ ভাবুন জীবন অনেক সুন্দর!
#১_ঝগড়া এড়িয়ে শান্ত থাকুন
প্রায়ই কথায় কথায় এর সাথে ওর লেগে যায়, অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর কলহ বা সন্তানদের নিয়ে অথবা সন্তানদের মধ্যে৷ তা হতে পারে পেশাগত চাপ বা নিজেদের লাইফস্টাইল নিয়ে৷ কিংবা সংসারের নানা কাজ৷ তাই কিছুটা সচেতন হয়ে কথা বলুন, একজন উত্তেজিত হলে অন্যজন শান্ত থাকুন৷ সরাসরি বলতে গেলে, ঝগড়া এড়িয়ে চলুন৷
#২_কাজের স্বীকৃতি দিন
দৈনন্দিন জীবনের অনেক কাজ থাকে, যা একজন হয়তো নিয়মিত করে চলেছে৷ কিন্তু সেকথা কখনো বলা হয়না বা স্বীকৃতি দেওয়া হয়না৷ যে যেটা নিয়মিত করছে তাকে মাঝে মধ্যে মুখে বলুন বা স্বীকৃতি দিন, কাজের সম্মান দেখান৷ স্বীকৃতি পেলে কে খুশি না হয়! তাছাড়া সংসারে সবাই সমান পারদর্শী নয়, তাই বলে কাউকে অবহেলা একেবারেই নয় !
#৩_কাজ ভাগাভাগি করে নিন
সংসারের প্রয়োজনীয় কাজগুলো ভাগাভাগি করে নিন৷ কারো পেশাগত চাপ বা পড়াশোনার চাপ থাকলে সে সময়ে অন্য আরেকজন সে কাজটি করে ফেলুন৷ তবে এ নিয়ে অবশ্যই কথা বলুন রাতে খাবার টেবিলে অথবা সপ্তাহান্তে৷ সকালে তাড়াহুড়ো করে বাড়ি থেকে বের হবার আগে কখনো সিরিয়াস আলাপ নয় !
#৪_ব্যক্তিগত ইচ্ছে বা সখের মূল্য দিন
পরিবারের সদস্যদের সখ বা ইচ্ছের মূল্য দিন৷ অবসর সময়ে কে কী করতে চায় অর্থাৎ গান, বাজনা, বই পড়া, ছবি আঁকা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা বা অন্য যা কিছুই হোক না কেন, এতে আগ্রহ দেখান৷ একজনের যা ভালো লাগে, অন্যের তা পছন্দ নাও হতে পারে৷ তাই বলে অসম্মান নয়৷ তবে প্রয়োজনে ভালো-মন্দ বুঝিয়ে বলা যেতে পারে৷ সবাই মিলে আলোচনা করে একে অপরের আগ্রহের কথা জানতে পারলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব৷
#৫_স্বামী-স্ত্রীর কলহ
আধুনিক যুগের চাকরিজীবী স্বামী-স্ত্রীর কলহের ধরনও পালটে গেছে৷ তবে সন্তানদের সামনে মা-বাবা ঝগড়া করলে তা সন্তানদের ওপর বেশ প্রভাব ফেলে৷ তাই মা-বাবাকে দু’জনের ভেতরের কলহ নিজেদের ঘরেই মিটিয়ে ফেলতে হবে৷ সন্তানদের সামনে ঝগড়া নয়, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের সামনে ঝগড়া হলে শিশুমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা পরে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে৷
#৬_পারিবারিক দ্বন্দ্ব
পারিবারিক দ্বন্দ্ব নেই – এমন পরিবার বোধহয় কমই আছে৷ নানা জনের নান মত থাকবেই৷ তাই মনের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব বা ভিন্ন মত হলে তা নিজের মধ্যে লুকিয়ে রেখে কষ্ট না পেয়ে খোলাখুলি স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন বা সকলে মিলে কথা বলুন৷ পারিবারিক দ্বন্দ্ব এড়াতে সবসময় সরাসরি আলোচনা করুন, কারণ এর কোনো বিকল্প নেই৷
#৭_জন্মদিন বা কোন উপলক্ষ্য
জন্মদিন পালন করা পশ্চিমা বিশ্বের সংস্কৃতি হলেও আজকাল তা আমাদের দেশেও চলে এসেছে৷ জন্মদিন উদযাপন মানেই বিশাল আকারে পার্টি করা নয়৷ ছেলে-মেয়ে, বাবা-মা সবার জন্মদিনকে বিশেষভাবে, অর্থাৎ যার জন্মদিন তাকে পছন্দের ছোট কিছু দিয়ে সবাই মিলে পরিবারের মধ্যেই দিনটি উদযাপন করতে পারেন৷ পরিবারে যার জন্মদিন, তাকে বছরের এই দিনটিতে সুন্দর করে বুঝিয়ে দেয়া যে, পরিবারে তার মূল্য কারো চেয়ে কম নয়৷
#৮_অসুখ-বিসুখে বাড়তি যত্ন
অসুখ-বিসুখে পরিবারের সদস্যরা একে অপরের প্রতি বিশেষ যত্ন নিন, বুঝিয়ে দিন অন্যদের সমবেদনার কথা৷ কিনে আনুন ফুল অথবা রোগীর পছন্দের মজার কোনো বই, যা রোগীকে আনন্দ দিতে পারে৷ কোনোভাবেই অবহেলা নয়, প্রয়োজনে নিজের কোনো কাজ ফেলে রেখে রোগীর দৃষ্টি আকর্ষণ করুন৷
#৯_সপ্তাহান্ত বা ছুটির দিন
পরিবারের সবার কাছেই যেন মনে হয় দিনটি পরিবারের জন্য৷ একসাথে একটু বেশি সময় নিয়ে সকালের নাস্তা করুন৷ কারো অন্য কোন কাজ বা অন্যকিছু থাকলে সবাইকে জানিয়ে দিন, হঠাৎ করে বলবেন না ‘আমি বাইরে যাচ্ছি’৷ যার যে কাজই থাকুক না কেন, সবার যেন এই অনুভূতি হয় যে ‘আমরা সকলে সকলের’৷ বাইরে থেকে ফিরতে দেরি হলে অবশ্যই বাড়িতে ফোন করে জানিয়ে দিন৷
#১০_হলিডে বা ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা
এ বছর কখন কোথায় বেড়াতে যাবেন কিংবা কোথাও যাওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে সবাই মিলে আলোচনা করুন৷ পরিবারের প্রতিটি সদস্যেরই মতামতের মূল্য রয়েছে – তা সবাইকে জানিয়ে দেয়া৷ হোক সে ছোট বা বড়৷ ছুটিতে গিয়ে দৈনন্দিন জীবনের সমস্ত চাপ ঝেড়ে আসুন, আনন্দ করুন, নতুন উদ্যম নিয়ে ফিরে আসুন৷ ভাবুন জীবন অনেক সুন্দর!
Wednesday, November 13, 2019
বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঘড়ি, দাম ২৬২ কোটি টাকা
বিশ্বের সবচেয়ে দামি ঘড়ি, দাম ২৬২ কোটি টাকা
ইতিহাস তৈরি হলো সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দামি ঘড়ির তকমা পেল সুইস কোম্পানি প্যাটেক ফিলিপের একটি ঘড়ি। ঘড়িটি দাম ওঠে বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ২,২৭ কোটি টাকা। শনিবার এই নিলামের আয়োজন করা হয়।
বিলাসবহুল ঘড়ির কথা উঠলেই সবার আগে যে দেশটির নাম সামনে আসে সেটি হলো সুইজারল্যান্ড। সেই সুইৎজারল্যান্ডের অন্যতম ঘড়ি নির্মাতাপ্যাটেক ফিলিপ। শনিবার তারা একটি ঘড়ি নিলামের আয়োজন করে। নিলামে ‘প্যাটেক ফিলিপ গ্র্যান্ডমাস্টার চাইম রেফারেন্স ৬৩০০এ-০১০’ ঘড়িটির এই বিপুল দাম ওঠে।
ডাচেন মাসকুলার ডেস্ট্রফি নামে একটি জিন ঘটিত রোগের চিকিত্সার গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহ করছে প্যাটেক ফিলিপ। সেই কারণেই এই ঘড়ি নিলামের আয়োজন করা হয়। সংস্থার প্রেসিডেন্ট থিয়েরি স্টের্ন বলেন, তারা আশা ছিল ১১০ কোটি টাকার মতো উঠে আসবে। কিন্তু তারা স্বপ্নেও ভাবেননি এত টাকা উঠবে নিলামে।
১৮৩৯ সাল থেকে ঘড়ি তৈরি করছে প্যাটেক ফিলিপ। তবে যে ঘড়িটি, বুর্জ খালিফায় দেড় হাজার স্কোয়ার ফুটের ৩২টি অ্যাপার্টমেন্ট বা রোলস রয়েস ফ্যান্টমের সেরা মডেলের ১১টি গাড়ির দামে বিক্রি হয়েছে সেটি কোম্পানির সব থেকে জটিল নক্সার ঘড়ি।
এই হাতঘড়িতে রয়েছে ১৩৬৬টি ছোট বড় পার্টস ও ২১৪ কেস কম্পোনেন্ট। শুধু এর জটিল ডিজাইনই নয় স্টেনলেস স্টিলের এই ঘড়িটিতে রয়েছে ১৮ ক্যারেটের ‘রোজ গোল্ড’ কেস। ঘড়িতে ঘণ্টা মিনিট সেকেন্ডের পাশাপাশি পাওয়া যাবে দিন, মাস, বছরও। শুধু তাই নয় এই তারিখ লিপিয়ার হিসেব করে চলে।
Saturday, November 9, 2019
ঘূর্ণিঝড়ের সংকেতসমূহ: কোন সংকেতে কী বোঝায়
ঘূর্ণিঝড়: কোন সংকেতে কী বোঝায়
ব্রিটিশ শাসনামলে তৈরি এই সংকেত ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক আধুনিক সংকেত ব্যবস্থা থেকে আলাদা। ঝড়ের গতি ও বিপদের সম্ভাব্য মাত্রা বিবেচনায় ১ থেকে ১১ নম্বর সংকেত দিয়ে এখানে সতর্কতার মাত্রা বোঝানো হয়।
সনাতনী এ সংকেত ব্যবস্থা মূলত তৈরি করা হয়েছিল সমুদ্রগামী জাহাজ ও বন্দরের নিরাপত্তার জন্য। জনসাধারণের জন্য সতর্কবার্তার বিষয়টি সেখানে খুব একটা গুরুত্ব পায়নি তখন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তৈরি ছক
সমুদ্রবন্দরে ঝড়ের সতর্ক বার্তা হিসেবে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত, ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত, ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত, ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেতের পর ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেত; ৮, ৯ ও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানো হয়। সর্বশেষ ১১ নম্বর দিয়ে বোঝানো হয়- যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
পাশাপশি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য রয়েছে ১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত, ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত, ৩ নম্বর নৌ বিপদ সংকেত ও ৪ নম্বর নৌ মহাবিপদ সংকেত।
সমুদ্রবন্দরের জন্য সংকেতগুলোর মধ্যে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের মাত্রা একই। আবার ৮, ৯ ও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতেরও মাত্রা এক। ঝড় কোন দিক দিয়ে যাবে তার ভিত্তিতে নম্বর আলাদা করা হয়, যদিও বিপদ সব ক্ষেত্রেই সমান।
এর ফলে সাধারণের মধ্যে অনেক সময় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ মনে করে, সংকেত যত বেশি, বিপদ তত বড়। ফলে দ্রুততম সময়ে বিপদ সম্পর্কে সচেতন করার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
এই সংকেত ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য গত আড়াই দশকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি সংকেত ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ে সুপারিশ জমা দিয়েছিল, তাও পরে আর বাস্তবায়ন হয়নি

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তৈরি ছক
সমুদ্রবন্দরে ঝড়ের সতর্ক বার্তা হিসেবে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত, ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত, ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত, ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেতের পর ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেত; ৮, ৯ ও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানো হয়। সর্বশেষ ১১ নম্বর দিয়ে বোঝানো হয়- যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
পাশাপশি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য রয়েছে ১ নম্বর নৌ সতর্ক সংকেত, ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত, ৩ নম্বর নৌ বিপদ সংকেত ও ৪ নম্বর নৌ মহাবিপদ সংকেত।
সমুদ্রবন্দরের জন্য সংকেতগুলোর মধ্যে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের মাত্রা একই। আবার ৮, ৯ ও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতেরও মাত্রা এক। ঝড় কোন দিক দিয়ে যাবে তার ভিত্তিতে নম্বর আলাদা করা হয়, যদিও বিপদ সব ক্ষেত্রেই সমান।
এর ফলে সাধারণের মধ্যে অনেক সময় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ মনে করে, সংকেত যত বেশি, বিপদ তত বড়। ফলে দ্রুততম সময়ে বিপদ সম্পর্কে সচেতন করার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
এই সংকেত ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য গত আড়াই দশকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি সংকেত ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ে সুপারিশ জমা দিয়েছিল, তাও পরে আর বাস্তবায়ন হয়নি
Friday, November 8, 2019
ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ কাল মধ্য রাতে আঘাত হানতে পারে
ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ কাল মধ্য রাতে আঘাত হানতে পারে।
০৮/১১/২০১৯.
‘বুলবুল’ কাল মধ্য রাতে আঘাত হানতে পারে
ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। তাঁদের মতে, ঘূর্ণিঝড়টি কাল শনিবার মধ্যরাতের দিকে বাংলাদেশের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের ওপর আঘাত হানতে পারে। তবে উপকূলে আঘাত হানার আগে কিছুটা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর কারণে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। এ জন্য দেশের তিনটি সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারকে আজ শুক্রবার ভোর ছয়টা থেকে ৪ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে সাগরে চলাচল না করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান সম্পর্কে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আজ সকালে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৭৬৯ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি আরেকটু ডানদিকে ঘুরতে পারে। আমাদের যে পর্যবেক্ষণ, তাতে মনে হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়টি খুলনা-বরিশাল উপকূলীয় অঞ্চলের ওপরে আঘাত আনবে। কাল শনিবার মধ্যরাতে এটি আঘাত হানতে পারে।’
ঘূর্ণিঝড়টি কতটুকু শক্তিশালী হবে, এ বিষয়ে আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমাদের ধারণা, বাতাসের গতিবেগ সর্বোচ্চ ১৪৪ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে উপকূলে চলে আসার আগে ঘূর্ণিঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বাতাসের গতিবেগ উপকূলে আঘাত হানার সময় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকতে পারে।’
আবদুল মান্নান জানান, ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ২২৩ কিলোমিটার। তিনি বলেন, ‘বুলবুল’–এর কারণে দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। আজ বিকেলের পর উপকূলীয় অঞ্চলে হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হবে। তবে উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড়টি বয়ে যাওয়ার সময় বৃষ্টির মাত্রা আরও বাড়বে। রাজধানী ঢাকায়ও ঝড়ের প্রভাবে বৃষ্টি থাকতে পারে।
Wednesday, October 23, 2019
নার্সিসিজম কি? ফেইসবুকের যুগে নার্সিসিজম
#নার্সিসিজম
#ফেইসবুকিংয়ের_যুগে_নার্সিসিজম
আমরা একবিংশ শতাব্দীর অধিবাসী হলেও অনেকেই ‘নার্সিসিজম’ শব্দ বা ধারণার সঙ্গে খুব একটা পরিচিত নয়। তবে এটাও সত্যি যে, আমাদের তরুণ সমাজ এই ধারণার সঙ্গে পরিচিত না হলেও তারা এই ধারণা দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত। নার্সিসিজম শব্দ এবং ধারণার উৎস প্রাচীন গ্রিসে হলেও এটি আর অপ্রচলিত কোনো শব্দ না; বরং এটি আমাদের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। নার্সিসিজম বলতে নিজের অত্যধিক প্রশংসা এবং নিজের সৌন্দর্যের প্রতি খুব বেশি পরিমাণে আসক্ত (মুগ্ধ) হওয়ার অভ্যাসকে বোঝায়।
যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কিছু নাগরিকের ওপর পরিচালিত এক গবেষণার পর একদল মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সপ্রতি অভিমত প্রকাশ করেছেন, ফেইসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলো নার্সিসিজম চর্চা করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। আমাদের যুবসমাজ এর ব্যতিক্রম নয় এবং আমাদের তরুণসমাজের বেশির ভাগই ফেইসবুকিং করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপচয় করে। এমন মনোভাবের প্রধান কারণ হলো তারা ‘নার্সিসিসটিক ডিসঅর্ডার’ (যাকে সহজ ভাষায় এক ধরনের ব্যাধি বলা যেতে পারে) নামক একটি আধুনিক যুগের ব্যাধির দ্বারা প্রভাবিত এবং আক্রান্ত।
গ্রিক পৌরাণিক অনুসারে, প্রাচীন গ্রিসে নার্সিসাস নামে এক ব্যক্তি ছিল। সে এতটাই সুদর্শন ছিল যে পরীরাও তার প্রেমে পড়ে যায় কিন্তু পরীদের প্রেমের প্রস্তাব সে প্রত্যাখ্যান করেছিল। পরীদের তার জন্য এমন উন্মাদনা নার্সিসাসকে চরমভাবে প্রভাবিত করে এবং সে নিজেই নিজের রূপের প্রেমে পড়ে যায়। একবার নার্সিসাস পানিতে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যায় এবং নিজের রূপের প্রতি ভালোবাসা কাটিয়ে উঠতে না পারার কারণে নিজের প্রতিচ্ছবির দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকে। পৌরাণিক কাহিনীতে বলা আছে, নার্সিসাস নিজের প্রতিচ্ছবি দেখা অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করে এবং সেখান থেকে একটি ফুলগাছেরও উৎপত্তি হয়। মূলত সেখান থেকেই ‘নার্সিসিজমের’ ধারণাগত বিকাশ ঘটে এবং পরে ইতিহাসে স্বীকৃতি লাভ করে।
প্রাচীন গ্রিসে এই ব্যাধি বা সমস্যা ‘হাবরিস’ নামে পরিচিত ছিল এবং মজার ব্যাপার হলেও সত্যি যে, এই ব্যাধিকে আধুনিক যুগে আসার পর মনোবিজ্ঞানীরা একটি মনস্তাত্তি¡ক দৃষ্টিকোণ থেকে সংজ্ঞায়িত করতে সফল হয়েছে।
ফেইসবুক একটি খুবই জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, যেখানে মানুষের কার্যকলাপ এখন আর শুধু তথ্য ও ভাব আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি তরুণদের জন্য নার্সিসিজমের বৈশিষ্ট্যগুলো প্রদর্শনের জন্য খুব নিরাপদ ও নিখুঁত একটি সাইটে পরিণত হয়েছে। তরুণসমাজের অনেকেই (বিশেষত মেয়েরা) এখন ফেইসবুকে ছবি আপলোড এবং ট্যাগ করা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করে। এ ছাড়া তারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছবি পোস্ট করাকে একটি আকর্ষণীয় কাজ মনে করে এবং এ জন্য ছবি তোলার সময় মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের ফিল্টার ব্যবহার করে। অবাক করার বিষয় হলো, এদের মধ্যে অনেকের জন্যই ফেইসবুকে ছবি পোস্ট করা এবং অন্যের ছবিতে মন্তব্য করাটা তাদের মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তদুপরি তারা এ জাতীয় কার্যকলাপকে সময়ের অপচয় হিসেবে বিবেচনা করে না।
আমরা প্রায়ই দেখি যে, যখনই কেউ ফেইসবুকে কোনো ছবি আপলোড করে, তখন সবাই প্রচুর মন্তব্য করে। কখনো কখনো সেসব মন্তব্য শালীনতার সীমা অতিক্রম করে। অনেকেই অবমাননাকর ও অশোভন মন্তব্য করে (বিশেষত মেয়েদের ছবির ক্ষেত্রে)। এমন মন্তব্য মেয়েদের বস্তু হিসেবে মূল্যায়নের আকাক্সক্ষা থেকে আবিভর্‚ত হয়। মার্টিন বুবার নামে এক অস্ট্রিয়ান দার্শনিক ১৯২৩ সালে ‘ইচ অ্যান্ড ডু’ (আমি এবং আপনি) শীর্ষক একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, আমাদের ‘নার্সিসিজম’ প্রায়ই এমনভাবে প্রভাবিত করে যে, আমরা অন্যদের নিজেদের সমকক্ষ না ভেবে বরং বস্তুরূপে বিবেচনা করি।
স্বনামধন্য দার্শনিক ও লেখক টমাস ডেভিড তার ‘নার্সিসিজম : বিহাইন্ড দ্য মাস্ক’ বইয়ে নার্সিসিজমের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেছেন। সেই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলোÑ উদ্ভট অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করা, এমন ব্যক্তিদের গ্রাহ্য করা, যারা তাদের প্রশংসা করে এবং যারা তাদের প্রশংসা করে না তাদের ঘৃণা করা, অন্যদের চেয়ে নিজেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে ভান করা, নিজের অর্জনগুলোর অতিরঞ্জিতকরণ, নিজেকে সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থাপন করার প্রচেষ্টা এবং অন্যের দৃষ্টিকোণ থেকে
পৃথিবী ও নিজের চারপাশকে দেখার অক্ষমতা।
উদাহরণস্বরূপ, সেদিন দেখলাম আমার এক ফেইসবুক বন্ধু তার প্রোফাইলে এক আত্মীয়ের জানাজায় অংশগ্রহণ করেছে এমন একটি ছবি পোস্ট দিয়েছে। ছবিতে তাকে বেশ উৎফুল্ল মনে হচ্ছে। কিন্তু এমনটা হওয়ার কথা না যদি আমরা সেই অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য বা গুরুত্ব বিবেচনায় নিই। যাই হোক, তারপরও সে ছবিটি তুলেছে এবং ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েছে। আশ্চর্যজনক হলো, সেই ছবির নিচে অনেকেই এমন মন্তব্য করেছে (যেমন ধরুন দারুণ লাগছে), যা মোটেও কাম্য না। এই উদাহরণ থেকে এটা স্পষ্ট যে, আমরা ফেইসবুকে এক ধরনের কল্পনার জগতে বসবাস করি এবং আমরা নির্লজ্জের মতো কাজকর্ম করি। অনেকেই সমবেদনা জানানোর পরিবর্তে দেখতে কেমন লাগছে সেটা নিয়ে মন্তব্য করছিল। এমন কার্যকলাপ থেকে এটা বুঝতে কষ্ট হয় না যে, অনেক ফেইসবুক ব্যবহারকারী অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিচার করা বন্ধ করে দিয়েছে। আমেরিকান দার্শনিক হচকিসের মতে, এমন নির্লজ্জতাও নার্সিসিজমের লক্ষণ।
প্রকৃতপক্ষে নার্সিসিজমের এমন নির্লজ্জ প্রদর্শন আমাদের যুবসমাজের জন্য মোটেও ভালো নয়। তবে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাটা যদি আমাদের জন্য খুব গুরুত্ব বহন করে, তাহলে আমরা সর্বোচ্চ নার্সিসিজমের ভালো দিকগুলো (হেলদি নার্সিসিজম) অনুশীলন করতে পারি। অস্ট্রিয়ান মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড ১৯১৪ সালে ‘নার্সিসিজম : অ্যান ইন্ট্রোডাকশন’ নামক প্রবন্ধে হেলদি নার্সিসিজমকে সংজ্ঞায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘হেলদি নার্সিসিজম’ সব ব্যক্তির মধ্যে থাকতে পারে এবং এমন ভাবনা একজন মানুষের স্বাভাবিক বিকাশের অংশ হতে পারে। যেমনÑ সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের ভালোবাসা এবং তাদের মনোভাবকে ‘হেলদি নার্সিসিজম’ হিসেবে মূল্যায়ন করা যেতে পারে। সাধারণত বাবা-মায়েরা নিজেরা যে উচ্চতায় কখনো পৌঁছাতে পারেননি, তারা সেই উচ্চতায় নিজেদের সন্তানকে দেখতে চান এবং নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায়, বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানের গুণাবলিগুলো অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত মূল্যায়ন করেন। এমন মনোভাব থাকাটা যুুক্তিসংগত এবং একে ‘হেলদি নার্সিসিজম’ বলে। আমাদের তরুণ প্রজন্ম এমন হেলদি নার্সিসিজমের চর্চা করতে পারে। এমনটা করতে পারলে আমরা ফেইসবুক এবং অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে সবার কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারব।
Friday, October 18, 2019
বাংলা ক্যালেন্ডারে আবারো পরিবর্তন আনলো বাংলাদেশ
বাংলা ক্যালেন্ডারে আবারো পরিবর্তন আনলো বাংলাদেশ
বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িত ঐতিহাসিক দিবসগুলোকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সাথে সমন্বয় করার জন্য বাংলা ক্যালেন্ডার পরিবর্তন করা হয়েছে।
তবে এই পরিবর্তন কেবল বাংলাদেশের জন্যই করা হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে যেখানে বাংলা একটি অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সেখানে এই পরিবর্তন করা হয়নি। এখন থেকে পয়লা বৈশাখসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো নির্দিষ্ট দিনে পালন হবে।বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন সাইয়েদা আক্তার।
#কী পরিবর্তন?
বাংলাদেশে নতুন বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী এখন থেকে বাংলা বছরের প্রথম ছয় মাস ৩১ দিনে হবে।
এর আগে বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র---বছরের প্রথম এই পাঁচ মাস ৩১ দিন গণনা করা হত।
এখন ফাল্গুন মাস ছাড়া অন্য পাঁচ মাস ৩০ দিনে পালন করা হবে।
ফাল্গুন মাস হবে ২৯ দিনের, কেবল লিপইয়ারের বছর ফাল্গুন ৩০ দিনের মাস হবে।
বাংলা বর্ষপঞ্জি পরিবর্তনের কাজটি করেছে বাংলা একাডেমির গবেষণা, সংকলন এবং অভিধান ও বিশ্বকোষ বিভাগ।
এ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলছিলেন, ২১শে ফেব্রুয়ারি, ১৬ই ডিসেম্বর, ২৬শে মার্চের মত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস সমূহ বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী যে দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই দিনে পালন করা হবে।
যেমন ২১শে ফেব্রুয়ারি, যা এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যা বিশ্বব্যাপী পালিত হয়, ১৯৫২ সালে ভাষার দাবিতে নামা মিছিলে গুলি চালানোর সেই ঘটনা ঘটেছিল বাংলা আটই ফাল্গুনে।
কিন্তু বছর ঘুরে অধিকাংশ সময়ই এখন ২১শে ফেব্রুয়ারি গিয়ে পড়ে নয়ই ফাল্গুনে, যা নিয়ে বিভিন্ন সময় লেখক, কবি, সাহিত্যিকসহ অনেকে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
মিঃ হোসেন বলছিলেন, একইভাবে বাংলাদেশের বিজয় দিবস ১৬ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালের ঐ দিনটি ছিল পয়লা পৌষ, কিন্তু বাংলা পঞ্জিকায় দিনটি পড়ত দোসরা পৌষ।
"আবার রবীন্দ্রজয়ন্তী ও নজরুলজয়ন্তী এবং তাঁদের মৃত্যুদিনও বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী যে দিনে হয়েছিল, তার সঙ্গে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির দিন মেলে না। কিন্তু নতুন নিয়মে দুই বর্ষপঞ্জির মধ্যে দিন গণনার সমন্বয় করা হয়েছে।"
#কবে থেকে পরিবর্তন?
বাংলা একাডেমীর গবেষণা, সংকলন এবং অভিধান ও বিশ্বকোষ বিভাগের পরিচালক মিঃ হোসেন বলছিলেন, এই পরিবর্তন মূলত চলতি ১৪২৬ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন থেকে চালু হয়েছে।
কিন্তু আগের নিয়ম অনুযায়ী যেহেতু প্রথম পাঁচ মাস ৩১ দিনেই হয়ে থাকে, সে কারণে আশ্বিন মাস পর্যন্ত পরিবর্তন টের পাওয়া যায়নি।
নতুন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মঙ্গলবার প্রথমবারের মত ৩১ দিনের আশ্বিন মাস পালন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১৭ই অক্টোবর পয়লা কার্তিক গণনা শুরু হওয়ায়, আজই নতুন ক্যালেন্ডারের পরিবর্তন প্রথম দেখা যায়।
#কবে সংস্কার শুরু?
বাংলাদেশে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত বর্ষপঞ্জি সংস্কার করা হলো।
নতুন করে পরিবর্তন আনার জন্য ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমি সংস্থাটির তৎকালীন মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে।
সেই কমিটিতে ড. অজয় রায়, জামিলুর রেজা চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ সদস্য ছিলেন।
বর্তমানে ঐ কমিটির সদস্য মিঃ খান বলছিলেন, বাংলা বর্ষপঞ্জি সংস্কারের কাজ প্রথম শুরু হয়েছিল ভারতে ১৯৫২ সালে।
বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা, যিনি বাংলাদেশেরই সন্তান, তাকে প্রধান করে ভারতের সরকার একটি পঞ্জিকা সংস্কার কমিটি করেছিল।
"তার আগে কেবল মাত্র চান্দ্র হিসাব ধরে বাংলা বর্ষপঞ্জি করা হত, যার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছিল না। মেঘনাদ সাহার ঐ কমিটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলোকে বাংলা বর্ষপঞ্জি সংস্কারের সুপারিশ করেন এবং তা গৃহীত হয়। পরে ১৯৫৬ সালে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বর্ষপঞ্জি সংস্কারের কিছু সুপারিশ সরকারের কাছে করেন। নতুন বর্ষপঞ্জি তারই আলোকে করা হয়েছে।"
#বাংলা বর্ষপঞ্জির শুরু
ইতিহাসবিদদের হিসাব অনুযায়ী ১৫৫৬ সাল থেকে বাংলা সন প্রবর্তন করা হয়।
মুঘল সম্রাট জালালউদ্দিন মোহাম্মদ আকবর খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য তার সভার জ্যোতির্বিদ আমির ফতুল্লা শিরাজীর সহযোগিতায় ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে 'তারিখ-এ-এলাহি' নামে নতুন একটি বছর গণনা পদ্ধতি চালু করেন।
এটি কৃষকদের কাছে 'ফসলি সন' নামে পরিচিত হয়, যা পরে 'বাংলা সন' বা 'বঙ্গাব্দ' নামে প্রচলিত হয়ে ওঠে।
ঐ সময়ে প্রচলিত রাজকীয় সন ছিল 'হিজরি সন', যা চন্দ্রসন হওয়ার প্রতি বছর একই মাসে খাজনা আদায় সম্ভব হতো না।
বাংলা সন শূণ্য থেকে শুরু হয়নি, যে বছর বাংলা সন প্রবর্তন করা হয়, সে বছর হিজরি সন ছিল ৯২৩ হিজরি।
সে অনুযায়ী সম্রাটের নির্দেশে প্রবর্তনের বছরই ৯২৩ বছর বয়স নিয়ে যাত্রা শুরু হয় বাংলা সনের।
বাংলা বর্ষের মাসগুলোর নামকরণ হয়েছে বিভিন্ন নক্ষত্রের নামে।
#বর্ষপঞ্জি সংস্কার দেশে দেশে
বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জিও অনেক বার পরিবর্তন হয়েছে, অনেক বছর ধরে সংস্কার হয়েছে।
ইটালিতে পোপের করা গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির সংস্কার ক্যাথলিক প্রটেস্টান্ট দ্বন্দ্বের কারণে ইংল্যান্ড গ্রহণ করেছিল ৭৫ বছর পর।
এমনকি হিজরি সনেরও নানা সময়ে সংস্কার করা হয়েছে।
Monday, September 23, 2019
Income tax Calculation. আয়কর হিসাবের খুটিনাটি । যেভাবে আয়কর হিসাব করবেন।
Income tax Calculation
#আয়কর_হিসাবের _খুটিনাটি
যেভাবে আয়কর হিসাব করবেন
আপনি যদি বছরে আড়াই লাখ টাকার বেশি আয় করেন, তবে কর দিতে হবে। করের হিসাব–নিকাশ সরল অঙ্কের মতো নয়। এই হিসাব কিছুটা ভিন্ন। আছে নানা ধরনের ছাড়। সেসব যোগ-বিয়োগ করে আপনাকে কর নির্ধারণ করতে হবে। আবার আড়াই লাখ টাকার বেশি আয় হলেই ওই টাকার ওপর একেক হারে কর আরোপ হবে। যেমন, আড়াই লাখ টাকার বেশি প্রথম ৪ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ কর, পরের ৫ লাখ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ কর। এভাবে যত আয় বাড়বে, করের হারও বাড়ে।
বাড়িভাড়া, চিকিৎসাভাতা, জীবননাশী রোগের চিকিৎসা খরচ, যাতায়াত, প্রভিডেন্ট ফান্ড, শ্রমিক তহবিলসহ বিভিন্ন খাতে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আয়ে কর ছাড় আছে। প্রতিবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত কর বিবরণী জমা দেওয়া যায়। এরপরে দিলে জরিমানা গুনতে হবে।
কোথায় কী কর
চাকরিজীবী করদাতাদের মূল বেতন, বিশেষ বেতন, বোনাস, মহার্ঘ ভাতা—সবই করযোগ্য আয়। যেমন, কোনো চাকরিজীবীর মূল বেতন যদি মাসে ৩০ হাজার টাকা হয়, তাহলে বছর শেষে ওই ১২ মাসের মূল বেতন যোগ হয়ে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা করযোগ্য আয়। যদি দুটি উৎসব মূল বেতনের সমান হয়, তাহলে আরও ৬০ হাজার টাকা যুক্ত হবে। মহার্ঘ ভাতা থাকলেও কর বিবরণীতে যোগ করতে হবে।
চাকরিজীবীদের বাড়িভাড়ায় কর ছাড় মিলবে। ওই চাকরিজীবী বাড়িভাড়া বাবদ ওই মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বা মাসিক ২৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি কম, তা করমুক্ত। ধরা যাক, একজন চাকরিজীবীর সারা বছরের মূল বেতন হলো ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ওই চাকরিজীবী বাড়িভাড়ায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া যাবে। একইভাবে ওই চাকরিজীবীর চিকিৎসাভাতায় ছাড় মিলবে মূল বেতনের ১০ শতাংশ বা ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে যেটি কম, সেটি। সে ক্ষেত্রে ওই চাকরিজীবী ৩৬ হাজার টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাবেন।
বেতনের সঙ্গে নিয়োগকর্তা যাতায়াত বাবদ খরচ দেন। সেখানেও বছরে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর দিতে হবে না। তবে কোনো চাকরিজীবী যদি অফিস থেকে গাড়ি পান, তাহলে মূল বেতনের ৫ শতাংশ বা বছরে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত করমুক্ত থাকবে।
যদি আপনার হৃদ্রোগ, কিডনি, চক্ষু, লিভার ও ক্যানসারের মতো জীবননাশী রোগে ভোগেন, তবে সার্জারির খরচের জন্য আপনার অফিস যত টাকা দেবেন, তা পুরোটাই করমুক্ত। তবে কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক এই সুবিধা পাবেন না।
অনেক চাকরিজীবী নিজের অফিসের ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন ফান্ড থেকে বিপদে-আপদে টাকা পান। এ ধরনের তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা পেলেও তা করযোগ্য নয়।
অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের কর্মীদের ছুটির বিপরীতে নগদ টাকা দিয়ে দেন। এ ধরনের ছুটি নগদায়নের টাকাও করমুক্ত। তবে তা বছরে ৬০ হাজার টাকার কম হতে হবে। অবসর গ্রহণের পর গ্র্যাচুইটি বাবদ আড়াই কোটি টাকা পর্যন্ত করমুক্ত।
বাড়িভাড়া বাবদ পুরো আয়ের ওপর কর বসবে না। আবাসিক ভাড়া দিলে বার্ষিক আয়ের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ দেখিয়ে রেয়াত মিলবে। বাণিজ্যিক ভাড়ার ক্ষেত্রে এই হার ৩০ শতাংশ। কোনো মাসে ফ্ল্যাট ভাড়া না হলে তা বাদ দিতে হবে। এ ছাড়া বাদ যাবে পৌর কর, ভূমি রাজস্ব, গৃহনির্মাণের কিস্তির টাকা।
বিনিয়োগে কর রেয়াত
বর্তমানে ৯টি খাতে বিনিয়োগ করলে কর রেয়াত মিলবে। কর রেয়াত পেতে এসব খাতে একজন করদাতা বছরের মোট আয়ের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বা দান করতে পারবেন। ওই বিনিয়োগকারী করদাতার বার্ষিক আয় ১৫ লাখ টাকার কম হলে মোট বিনিয়োগ ও দানের ১৫ শতাংশ কর ছাড় মিলবে। ১৫ লাখ টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ হারে কর ছাড় পাওয়া যাবে।
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে কর রেয়াত পাওয়া যায়। সঞ্চয়পত্র ছাড়া আরও আটটি খাত আছে, যেখানে বিনিয়োগ করলে আপনি কর ছাড় পাবেন। এগুলো হলো স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, স্টক, মিউচুয়াল ফান্ড বা ডিবেঞ্চার কেনা; জীবনবিমার প্রিমিয়াম; সরকারি কর্মকর্তারা প্রভিডেন্ট ফান্ডে চাঁদা; স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিলে নিয়োগকর্তা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাঁদা; কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠীবিমার তহবিলে চাঁদা; সরকার অনুমোদিত ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ এবং সুপার অ্যানুয়েশন ফান্ডে চাঁদা। এ ছাড়া ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিপোজিট পেনশন স্কিমে বার্ষিক সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা রাখলেও কর রেয়াত পাবেন। অর্থাৎ মাসে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিপিএস রাখলে বিনিয়োগজনিত কর ছাড় মিলবে।
চেক লিস্ট
কর বিবরণী জমা দিতে হলে বেশ কিছু কাগজপত্র দেখাতে হবে। সেগুলোর অন্যতম হলো বেতন খাতের আয়ের দলিল, সিকিউরিটিজের ওপর সুদ আয়ের সনদ, ভাড়ার চুক্তিপত্র, সঞ্চয়পত্রের অনুলিপি, পৌর করের রসিদ, বন্ধকি ঋণের সুদের সনদ, মূলধনি সম্পদের বিক্রয় কিংবা ক্রয়মূল্যের চুক্তিপত্র ও রসিদ, মূলধনি ব্যয়ের আনুষঙ্গিক প্রমাণপত্র, শেয়ারের লভ্যাংশ পাওয়ার ডিভিডেন্ড ওয়ারেন্ট, সুদের ওপর উৎসে কর কাটার সার্টিফিকেট।
Wednesday, April 24, 2019
অপাত্রে_সাহায্য_চাওয়ার_পরিণতি
#ভিক্ষা_চাইনে_কুকুর_ঠেকাও
#অপাত্রে_সাহায্য_চাওয়ার_পরিণতি।।।
এক স্থুল বুদ্ধি কবি এক অপরিচিত গ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সে একটা বিরাট বাড়ি দেখে মনে করল, এটা নিশ্চয় কোন আমীর ওমরাহের বাড়ি হবে। কিছু বকশিশ পাওয়ার আশায় সে বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ল। বাড়িটা ছিল সে অঞ্চলের কুখ্যাত দস্যুদলের সর্দারের। বাড়িওয়ালার সামনে গিয়েই কবি তার প্রশংসাসূচক কবিতা তৈরি করে সুললিত কণ্ঠে আবৃতি শুরু করে দিল।
ডাকাত কবিতার মর্ম কি করে বুঝবে? বিরক্ত হয়ে সে তার সাঙ্গপাঙ্গকে হুকুম দিল, বেটার জামা কাপড় কেড়ে নিয়ে ধাক্কা দিয়ে বের করে দাও।
সাথে-সাথে নির্দয়ভাবে তাই করা হলো। বেচারা আর কি করবে। উলংগ অবস্থায় সে পথে নামতে বাধ্য হলো। প্রচণ্ড শীতের সকাল। দারুণ ঠান্ডায় রাস্তাঘাট বরফে আচ্ছান্ন। বেচারা কবি বিবস্ত্র অবস্থায় পথে পা দিতেই ন্যাংটা মানুষ দেখে কুকুরের দল ঘেউ ঘেউ করে তাকে ঘিরে ধরল। একেতো শীতে ঠকঠক করে কাঁপছে, তার ওপর চারদিকে আক্রমণোদ্যত কুকুরের পাল। নিরুপায় কবি কুকুর তাড়াবার উদ্দেশ্যে ঢিল ছুঁড়তে চাইল। কিন্তু সর্বত্র বরফে ঢাকা। ঢিল কোথায় পাবে? কঠিন বরফ সরিয়ে সে ঢিল সংগ্রহ করতে পারল না। নিরুপায় হয়ে সে চিতকার করে কেঁদে বলতে লাগলোঃ এ কোন হারামযাদাদের পাল্লায় পড়েছি। দুষ্টুরা কুকুরগুলোকে ছেড়ে দিয়ে আমার পেছনে লাগিয়ে দিয়েছে। আর ঢিলগুলো বরফ দিয়ে বেঁধে দিয়েছে।
দস্যু সরদার বালাখানার জানালা দিয়ে এই দৃশ্য দেখছিল। কবির এই কথা শুনে সে না হেসে থাকতে পারলো না। তার দুর্দশা দেখে একটু দয়াও হলো। কবিকে ডেকে সে বললঃ ওহে সুধী! আমার কাছে কী সাহায্য চাও?
কবি করজোড় নিবেদন করল, দয়া করে আমার কাপড় জামা ফেরত দিলেই বেঁচে যাই। আর সাহায্যের দরকার নাই, ভিক্ষা চাই না কুকুর ঠেকাও।
কবির কাতরোক্তি শুনে নিষ্ঠুর দস্যুর মনেও দয়ায় উদ্রেক হলো এবং তার কাপড়-চোপড় ফেরত দিয়ে দিল। সঙ্গে আর এই প্রস্থ ভাল কাপড় এবং কিছু টাকা পয়সা দিয়ে কবিকে বিদায় করে দিল।
শিক্ষাঃ হিসাব করে কাজ করা উচিত। আমীর-ওমরা অথবা চোর ডাকাতের বাড়ি সাহায্যের জন্য যাওয়া উচিত নয়। তাদের নির্মম হৃদয়ের মধ্যে করুণা নেই। মানুষকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। রিক্ত হস্তে বিপদের ঝুঁকি নিয়ে চলে যেতে হয়।
Sunday, April 21, 2019
গাভাস্কার যেদিন নিজেই আউট হয়ে যেতে চেয়েছিলেন! সুনিল গাভাস্কারের জীবনের একটি কালো দিক।
গাভাস্কার যেদিন নিজেই আউট হয়ে যেতে চেয়েছিলেন!
টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সফল ওপেনার তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিখ্যাত ‘পেস চতুষ্টয়’সহ আরও অনেক কিংবদন্তি বোলারদের সময়ে খেলে ১০ হাজারের বেশি রান। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে তাঁর সাফল্যের প্রমাণ। তবে বিশ্বকাপে এসেও যে এমন ‘টেস্ট ম্যাচ’ খেলবেন সুনীল গাভাস্কার, সেটি বোধ হয় ভাবতে পারেননি কেউই। বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ম্যাচেই গাভাস্কার এমন এক ইনিংস খেলেছিলেন, পারলে নিজে ইতিহাসের পৃষ্ঠা থেকে সেই ঘটনা চিরতরে মুছে ফেলেন!
মূল গল্পে যাওয়ার আগে একটু প্রেক্ষাপট বলে নেওয়া দরকার। টেস্ট ক্রিকেটের প্রায় এক শ বছর পর শুরু হয় ওয়ানডে। ১৯৭১ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের চার বছরের মাথায় শুরু হয়ে গেল বিশ্বকাপ। ১৯৭৫ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আগে ইংল্যান্ড ছাড়া অন্য দলগুলোর তাই ওয়ানডে ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা বলতে গেলে ছিলই না। ৭ জুন লর্ডসে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ খেলার সৌভাগ্য হয়েছিল ভারতের। কিন্তু এর আগে তারা ওয়ানডে খেলতে পেরেছিলই মোটে দুটি।
দারুণ আবহাওয়া ও ব্যাটিং উইকেটে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে ইংল্যান্ড। ওপেনার ডেনিস অ্যামিসের ১৪৭ বলে ১৩৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে ৬০ ওভারে ৪ উইকেটে তোলে ৩৩৪ রান। জয়ের জন্য লক্ষ্যটা একটু বেশি হয়ে গেলেও ভারতের হাল ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল না। তাদের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ছিলেন সুনীল গাভাস্কার।
সেই গাভাস্কারই এমন ব্যাটিং করলেন, যেটি নিয়ে কথা উঠলে লিটল মাস্টার নিজেই লজ্জায় লাল হয়ে যান। শুরুতে মনে হচ্ছিল, নতুন বলের সুইং কাটিয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলে কিছুটা ধীরগতিতে ব্যাট করছেন। কিন্তু সময় গড়াতে থাকলেও গাভাস্কারের ব্যাট চলতে লাগল সেই শম্বুক গতিতেই। শেষ পর্যন্ত পুরো ৬০ ওভার উইকেটে থেকে গাভাস্কারের রান দাঁড়াল ১৭৪ বলে অপরাজিত ৩৬! গাভাস্কারের এমন মন্থর ব্যাটিংয়ের ছাপ পড়ল ভারতের স্কোরকার্ডেও। মাত্র ৩ উইকেট হারালেও ৬০ ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়াল ১৩২ রান! হাতে ৭ উইকেট রেখেও ২০২ রানের বিশাল পরাজয়।
সব ছাপিয়ে আলোচনায় গাভাস্কারের এই ইনিংস। ভারত এর আগে ওয়ানডে তেমন খেলেনি, এই যুক্তিতেও গাভাস্কারকে আড়াল করা যায়নি। ওই ম্যাচেই তো ইংল্যান্ড ওয়ানডে ব্যাটিংটা দেখিয়ে দিয়েছিল। এর মধ্যে ক্রিস ওল্ডই তো এখনকার ‘আন্দ্রে রাসেল’টাইপ ইনিংস খেলেছিলেন ৩০ বলে ৫১ রান করেন।
ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হলো তাঁর সমালোচনা। সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার ডেনিস কম্পটন বললেন, ‘ভারতীয়রা এ রকম করুণ ব্যাটিং করবে, এটা কেউই আশা করেনি। আর এর মূল দায়টা নিতে হবে গাভাস্কারকেই।’ কিন্তু অমন আশ্চর্য মন্থর ব্যাটিংয়ের রহস্য কী? ম্যাচ শেষে এক বিবৃতিতে ভারতীয় দলের ম্যানেজার জি এস রামচাঁদ বললেন, ‘ইংল্যান্ডের দেওয়া লক্ষ্যকে অনতিক্রম্য মনে করেছিলেন গাভাস্কার, তাই পরের ম্যাচগুলোর জন্য ব্যাটিং অনুশীলন করে নিয়েছেন এই ম্যাচে।’ বলাই বাহুল্য, রামচাঁদের এই খোঁড়া যুক্তি মন ভরাতে পারেনি কারও।
তবে দুই দিন পরই রামচাঁদের বিবৃতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেল। ডেইলি এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রীতিমতো ধুয়ে দিলেন গাভাস্কারকে, ‘আমার দেখা সবচেয়ে লজ্জাজনক ও স্বার্থপর ইনিংস ছিল সেদিনের ইনিংসটি। সে (গাভাস্কার) আমাকে এসে বলেছিল, উইকেট শট খেলার জন্য খুব ধীর ছিল। কিন্তু ঠিক আগের ইনিংসেই ইংল্যান্ড ৩৩৪ রান করে যাওয়ার পরে এই যুক্তি কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। পুরো দল এ ঘটনায় বিব্রত। আমাদের জাতীয় মর্যাদা এভাবে ধুলায় মিশে যেতে পারে না।’
রক্তের কোন গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা বলা হয়?
রক্তের কোন গ্রুপকে সর্বজনীন দাতা বলা হয়?
‘ও’ গ্রুপের রক্তদাতাকে সার্বজনীন দাতা বলা হয়। সাধরণভাবে এ্যান্টিবডি ও এ্যান্টিজোনের ভিত্তিতে মানুষের রক্তকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: 'এ', 'বি', 'এবি' এবং 'ও'। . যে নির্দিষ্ট রক্তে যে এ্যান্টিজেন নেই, শুধু সেই এ্যান্টিবডি সেখানে পাওয়া যাবে। ‘এ’ ব্লাড গ্রুপে ‘এ’ এ্যান্টিজেন, ‘বি’ ব্লাড গ্রুপে 'বি' এ্যান্টিজেন বিদ্যমান। আবার, ‘এবি’ ব্লাড গ্রুপে ‘এ’ ও ‘বি’ উভয় ধরনের এ্যান্টিজেন থাকে। ‘ও’ ব্লাড গ্রুপে রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোনো এ্যান্টিজেন নেই। তবে 'এ্যান্টি-এ' ও 'এ্যান্টি-বি' দু’রকমের এ্যান্টিজেনই থাকে। . ‘এ’ গ্রুপের রক্তে থাকা এ্যান্টিবডি ‘বি’ গ্রুপের রক্তে মিশে গেলে, লোহিত রক্তকণিকা জমাট বেধে যায়। একইভাবে ‘বি’ গ্রুপের রক্তের এ্যান্টিবডি ‘এ’ গ্রুপের রক্তের লোহিত রক্তকণিকাকে জমিয়ে ফেলে। অতএব, ‘এ’ রক্তের গ্রুপের গ্রহীতা কোনওভাবেই ‘বি’ রক্তের গ্রুপের দাতার রক্ত নিতে পারবে না। একইভাবে ‘বি’ রক্তের গ্রুপের গ্রহীতাও ‘এ’ রক্তের গ্রুপের দাতার রক্ত নিতে পারবে না। . আবার, ‘এবি’ গ্রুপের রক্তে কোন এ্যান্টিবডি পাওয়া যায় না। অতএব, এরা অন্য গ্রুপের রক্তের লোহিত কণিকাকে জমিয়ে দিতে পারে না। তাই ‘এবি’ রক্তের গ্রুপের গ্রহীতা চারটি রক্তের গ্রুপের ( এ, বি, এবি, ও) প্রত্যেকেরই রক্ত গ্রহণ করতে পারবে। এজন্য এই গ্রুপের গ্রহীতাকে সার্বজনীন গ্রহীতা বলে। দাতা হিসেবে এরা নিজ গ্রুপ ব্যতীত অন্য কোন গ্রুপকে রক্ত দিতে পারবে না। . অপরদিকে, ‘ও’ রক্তের গ্রুপে কোন এ্যান্টিজেন থাকে না। এরা একমাত্র নিজ গ্রুপ ছাড়া অন্য সকল গ্রুপের রক্তের লোহিত রক্তকণিকাকে জমিয়ে ফেলে। তাই রক্ত গ্রহনকালে ‘ও’ রক্তের গ্রুপের গ্রহীতা কেবল নিজ গ্রুপের রক্ত গ্রহণ করতে পারে। তবে, দাতা হিসেবে এরা প্রত্যেক গ্রুপকে (এ, বি, এবি এবং ও) রক্ত দিতে পারে। এই কারনে 'ও' গ্রুপের রক্তদাতাকে বলা হয় সার্বজনীন দাতা।
Saturday, April 6, 2019
সহজে বয়স বের করার নিয়ম। How to calculate Age
অনেক সময় বিভিন্ন চাকরির আবেদন করতে গিয়ে বয়স বের করার প্রয়োজন হয় যা অনেকেই জানেন না। কিভাবে সহজ উপায়ে নির্দিষ্ট বয়স বের করা যায়?
১৬ ডিসেস্বর ১৯৭১ আপনার জন্ম তারিখ এবং ৭ মে ২০১৫ পর্যন্ত বয়স বের করতে হবে। অর্থ্যাৎ ৭ মে ২০১৫ থেকে ১৬ ডিসেস্বর ১৯৭১ বিয়োগ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে, উপরিউক্তো দিন, মাস ও বছরগুলোকে সাজাতে হবে নিম্নরূপে, বছর-মাস--দিন ২০১৫-০৫-০৭ এবং ১৯৭১-১২-১৬ ------------------- ৪৩-০৪-২১ (+)-০১ ----------------- ৪৩-০৪-২২ অর্থ্যাৎ ৪৩ বছর ৪ মাস ২২ দিন। ব্যাখ্যাঃ অংকটি সাজানোর পরে, আমি ৭ দিন থেকে ১৬ দিন বিয়োগ করবো কিন্তু ৭ থেকে ১৬ বিয়োগ যায় না। সূতরাং সেই ছোট্ট বেলার নিয়মে পাশের সংখ্যাটি থেকে ১ ধার নিবো (ধার সব সময় বামের সংখ্যাটি থেকে নিতে হবে)। মজার ব্যাপার হলো যেখান থেকে ১ ধার নিচ্ছি সেটা কিন্তু মাসের ঘর আর আমরা বিয়োগ করছি দিনের ঘরের সংখ্যাগুলোকে। তাহলে, মাসের ঘর থেকে ১ ধার নিয়ে দিনের ঘরে আনলে তা ৩০ দিন ধরে নিতে হবে কেননা ১ মাসে ৩০ দিন যা আমরা জানি। এখন তাহলে, দিনের ঘরের উপরে আছে ৭ আর এর সাথে ধার নেয়া ১ মাসের ঘর থেকে মানে ৩০দিন যোগ করে দিলাম। তাহলে দিনের ঘরে উপরে দাঁড়ালো ৩৭; যা থেকে ১৬ বিয়োগ করে ফলাফলের ঘরে সর্ব ডানে পেলাম ২১ বা ২১ দিন। এখন, ধার করা ১ মাস বা ৩০ দিন ফেরৎ দিবো- যার কাছে নিয়ে ছিলাম তাকে। কিন্তু একটা বিষয় ৩০ দিনকে মাসে কন্ভার্ট করে ফেবৎ দিবো কেননা যাকে ফেরৎ দিচ্ছি সে অলরেডী মাসের ঘরে আছে বা মাস হিসেবে আছে।মতাহলে, আমাদের অংকে মাসের ঘরে নীচের সারিতে আছে ১২; (এর সাথে ফেরতকৃত ১ নিয়ে হলো ১৩ বা ১৩ মাস। এখন আবার মাসের ঘরের সংখ্যাগুলো বিয়োগ করবো কিন্তু উপরে আছে ৫ মাস আর নীচে হলো ১৩ মাস (ঐ ধারের ১ মাস দিয়ে)। এখানেও বিয়োগ হচ্ছে না কেননা উপরের সংখ্যাটি ছোট্ট আর নিচের সংখ্যাটি বড়। তাহলে আবার ধার নিতে হবে। এবার বছরের কাছ থেকে ১ বছর (কন্ভার্ট করে ১২ মাস কেননা আমরা মাসের ঘরের বিয়োগ করছি) ধার নিয়ে যোগ করলাম ৫ মাসের সাথে। তাহলে মনে মনে ৫ মাসের স্থলে হলো ১৭ মাস। এখান থেকে বিয়োগ দিবো আগের ঐ ১৩ মাস; হবে ৪ মাস। এটা মাসের ঘরের ফলাফলে বসাতে হবে। এখন আবার ধার শোধ করবো। অংকটিতে নীচের সারিতে বছরের ঘরে আছে ১৯৭১; এর সাথে ধার ফেরতকৃত ১২ মাস কন্ভার্ট করে ১ বছর যোগ দিলে হয় ১৯৭২; যা ২০১৫ থেকে বিয়োগ করলে হয় ৪৩ বা ৪৩ বছর। তাহলে, সর্বশেষ ফলাফল দাঁড়ালো, ৪৩ বছর ৪ মাস ২১ দিন। কিন্তু যেহেতু বয়স বের করতে হবে তাই প্রাপ্ত ফলাফলের দিনের সাথে ১ যোগ করতে হবে। এই ১ হলো বয়স বের করার সূত্রের ১।।
Friday, March 29, 2019
যে জলে আগুন জ্বলে !!!!!! আগুন ও তার সমাধান। Fire & it's Solution.
আগুন ও তার সমাধান। Fire & it's Solution.
#যে_জলে_আগুন_জ্বলে!!
জরুরী পোস্ট,,,,,,
ধরুন আপনার শরীরটা একটু খারাপ করেছে, আপনি নিজের ইচ্ছেমতো প্যারাসিটামল খাচ্ছেন সুস্থ হওয়ার জন্য। পরে পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর দেখা গেল যে আপনার যকৃত বা লিভার হয়তো আগে কিছুটা খারাপ ছিল, কিন্তু ইচ্ছেমতো প্যারাসিটামল খাওয়ার কারণে পুরোপুরিই খারাপ হয়ে গেছে—কী অদ্ভুত একটা ট্র্যাজেডি!!
সম্প্রতি বনানী, লালবাগ, আর চকবাজারে ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেখে এই প্যারাসিটামল ট্র্যাজেডির কথাই কেন যেন মনে হচ্ছে।
- আচ্ছা সব আগুনই কি পানি দিয়ে নেভানো যায়?
- তাই তো দেখে এসেছি সব সময়। আর আগুন তো আগুনই!! তার আবার রকম কী!!!
সব আগুন আপাতদৃষ্টিতে দেখতে একরকম মনে হলেও পৃথিবীতে অগ্নি নিরাপত্তার মানদণ্ড স্থাপনকারী সংস্থাগুলো একে মোটামুটি ৫ ভাগে ভাগ করেছে (এ) কাঠ, কাগজ, কাপড়সহ অন্যান্য কার্বন যৌগ, (বি) তেল, রংসহ অন্যান্য দাহ্য রাসায়নিক তরল, (সি) দাহ্য গ্যাস, (ডি) ম্যাগনেসিয়াম, টাইটেনিয়ামসহ অন্যান্য ধাতব পদার্থ, (ই) বৈদ্যুতিক যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ। অদ্ভুত ব্যাপার হলো এর মধ্যে (এ) শ্রেণি ব্যতীত আর কোনো শ্রেণির আগুনই সাধারণত পানিতে নেভে না। তার মানে হলো বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে যদি আগুন লাগে আর পানি দিয়ে সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে ওই বৈদ্যুতিক যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে শেষ হওয়ার আগে ওই আগুন তো নেভেই না বরং পানির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বা তড়িতাহিত হয়ে মানুষেরও প্রাণহানি ঘটতে পারে।
সাধারণত বিভিন্ন ধরনের আগুন বা এর মিশ্রণের জন্য নির্দিষ্ট ধরনের অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা রাখতে হয়। খরচের দিক থেকে কার্যকরী এমন কোনো ব্যবস্থাই আসলে নেই যা একই সঙ্গে সব ধরনের আগুন নিয়ন্ত্রণ বা নির্বাপণ করতে পারে। এমতাবস্থায় প্রকৌশলগত দিক থেকে উপযুক্ত সমাধান হচ্ছে সব ধরনের পদার্থ যেন একসঙ্গে থাকতে না পারে তা নিশ্চিত করা আর মিশ্রণ থাকলে সেই অবস্থার উপযোগী একটা সমাধান বের করা। উদাহরণস্বরূপ যদি চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের কথা বলি, সেখানে একই সঙ্গে ৪ শ্রেণির আগুন ছিল (এ) মানুষ এবং সহায় সম্পদ, (বি) রাসায়নিক পদার্থ, (সি) সিএনজি, এলপিজি, (ই) বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, যন্ত্র আর তার। পানি দিয়ে তো তাৎক্ষণিক অগ্নিনির্বাপণ সম্ভব ছিলই না, অন্য কিছু দিয়েও আসলে কাজ হতো না, কারণ এই মিশ্রণের উপযুক্ত কোনো নির্বাপণব্যবস্থাই নেই।
যখন কোনো অগ্নি নিরাপত্তাব্যবস্থা নকশা বা স্থাপন করা হয়, তখন সেটা এমনভাবে করা হয় যেন (১) আগুন ধরার আগেই এর লক্ষণ টের পাওয়া যায়, (২) আগুন ধরে গেলে সঙ্গে সঙ্গেই জানা যায় এবং খুব অল্প সময়ের (বড়জোর কয়েক মিনিট) মধ্যেই নিভিয়ে ফেলা যায়, (৩) নেভানো না গেলেও সেই আগুন যেন একটা জায়গাতে আবদ্ধ থাকে, ছড়িয়ে না পড়ে সেই ব্যবস্থা করা যায়। এর কোনোটাই যখন ঠিকভাবে হয় না, তার মানে হলো ওই অগ্নি নিরাপত্তা বা নির্বাপণব্যবস্থা প্রায় বা সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
একটা স্থাপনার নিজস্ব উপযুক্ত অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকলে বা সে ব্যাপারে আমরা যাঁরা ব্যবহারকারী তাঁদের প্রায়োগিক জ্ঞান না থাকলে আসলে ফায়ার ব্রিগেডের পক্ষে ভালো কোনো ফলাফল দেওয়া কখনোই সম্ভব নয়। আমাদের মাথায় রাখতে হবে, ফায়ার ব্রিগেড কখনোই প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা হওয়া উচিত নয়। ফায়ার ব্রিগেড ঘটনাস্থলে আসতে যে ন্যূনতম সময় নেয়, সেই সময়ে আগুন যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষত বৈদ্যুতিক যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ আক্রান্ত করে, তাতে হয়তো অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থার সমাধান ফায়ার ব্রিগেড শুধু পানি দিয়ে দিতে পারবে না।
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের প্রদেয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালে সারা দেশের মোট ১৯ হাজার ৬৪২টি অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণের মধ্যে ৪৩ শতাংশই সরাসরি বিদ্যুৎ (ই) শ্রেণির আর ১৮ শতাংশ হচ্ছে সরাসরি গ্যাস (সি) শ্রেণির। এর মানে হলো ৬১ শতাংশ ক্ষেত্রে আগুনের শুরুটাই পানি দিয়ে নেভানোর উপযোগী নয়। আর বাংলাদেশের বাস্তবতায় যেকোনোভাবে আগুন ছড়ানো মানেই হলো বৈদ্যুতিক যন্ত্র, যন্ত্রাংশ বা তারে অথবা চুলার গ্যাসে ছড়িয়ে পড়া। তাহলে এই মিশ্র শ্রেণির আগুনের জন্য আমরা আদৌ প্রস্তুত আছি কি?
আমাদের স্থাপনাগুলোতে আমরা অনেক সময়ই বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার দেখে থাকি। এমন স্থাপনাগুলোতে অনেক ক্ষেত্রেই স্থায়ী এবং স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা না থাকলেও আমরা ধরে নিই যে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে বাসিন্দাদের এমনভাবে গড়ে তুলব যে আগুন জ্বলার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের ধরন বুঝে উপযুক্ত নির্বাপক দিয়েই আগুন নিভিয়ে ফেলব। খুব ইতিবাচক ভাবনা হলেও সমস্যাটা হচ্ছে এর সাফল্য সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আগুন দেখতে পাওয়ার ওপর। যদি মানুষ টের না পায় বা মানুষের অনুপস্থিতিতে আগুন ধরে যায়, এই পদ্ধতি যে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হতে পারে তা বলাই বাহুল্য। এসব ক্ষেত্রে আগুনকে একটা জায়গায় আবদ্ধ রাখার জন্য অগ্নিপ্রতিরোধক দরজা ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে বহু প্রতিষ্ঠানেই লাল রঙের এ ধরনের দরজা দেখা যায়, যা বেশ প্রশংসনীয়। তবে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে জানালা বা ভেন্টিলেশনের জায়গাগুলোতে অনেক ক্ষেত্রেই অগ্নিপ্রতিরোধক কোনো ব্যবস্থা থাকে না, এ যেন বজ্র আঁটুনি, ফসকা গেরো! অগ্নিপ্রতিরোধক না হলে আগুন জানালা বা ভেন্টিলেশন দিয়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে মহামূল্য অগ্নিপ্রতিরোধক দরজা সাদা হাতি ছাড়া আর কিছু না।
আমাদের দেশের অনেক নামীদামি প্রতিষ্ঠানের অনেক নামীদামি স্থাপনাতেই দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভাবনার এমন অসম্পূর্ণতা দেখতে পেয়েছি। উপযুক্ত অগ্নি শনাক্তকরণ ও নির্বাপণব্যবস্থা, বাসিন্দাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ আর আগুন ছড়ালেও এক জায়গাতে আবদ্ধ রাখার যে প্রক্রিয়া, সব মিলিয়ে এই পরিপূর্ণ ব্যবস্থার দেখা পাওয়া দুর্লভ বৈকি! সব যেন কোনো রকমে ‘কমপ্লায়েন্স’ সনদ পাওয়ার মধ্যে আটকে আছে, আগুন কবে ধরবে না ধরবে, বা আদৌ ধরবে কি না, সেই জন্য কিছু করা যেন বড্ড বাজে খরচ।
উপযুক্ত অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা করা অবশ্যই কিছুটা ব্যয়সাপেক্ষ, কিন্তু অসম্পূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা বা নিরাপত্তার অভাব যে ক্ষতির সৃষ্টি করে, তা কি আদৌ অর্থ দিয়ে মূল্যায়ন করা সম্ভব! আর যে ক্ষতি আর্থিক মূল্য দিয়ে বিবেচনা করা যাচ্ছে, সেই তুলনায় উপযুক্ত অগ্নিনিরাপত্তা কি খুব বেশি ব্যয়বহুল ছিল! ক্ষতিগ্রস্তরাই হয়তো এর উত্তর আরও ভালোভাবে দিতে পারবেন।
উপযুক্ত অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যয়বহুল নয়, বরং নিরাপত্তার অভাবই বহুগুণ বেশি ব্যয়বহুল!
Saturday, March 2, 2019
Exam Preparation | পরীক্ষা প্রস্তুতি | পরীক্ষার আগের রাতের করনীয় | What shoud you do before exam day |
পরীক্ষার আগের রাতে কি করা উচিত?
পরীক্ষার আগের রাতের করনীয় ?
হ্যালো বন্ধুরা আজ আমি যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করব তা হল পরীক্ষার আগের রাতে করনীয় । আমাদের অনেকের মাঝে পরীক্ষার আগে অনেক ভয় ভীতি কাজ করে যে পরীক্ষা কেমন দিব, কি সমাচার ইত্যাদি । তো আজ আমি কিছু টিপস নিয়ে আলোচনা করব যা তোমাদের পরীক্ষার আগের রাতে ভালো প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করবে ।
১। আত্ববিশ্বাস : প্রথম যে জিনিষ টা প্রয়োজন তা হল আত্ববিশ্বাস । তোমার মনের মাঝে এটা বিশ্বাস থাকতে হবে যে তুমি পারবে । তোমার মনের ভিতর থেকে সকল ভয় ভীতি দুর করতে হবে । অনেকে আছে যারা এই প্রথম ধাপ টাই পার করতে পারে না ,তাই তোমাকে আত্ববিশ্বাসী হতে হবে ।
Trust Yourself,
you know more than you think
you Do.
-Benjamin Sopck
২। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া : আমাদের মাঝে অনেকেই মনে করে যে পরীক্ষার আগের রাতে ফাস্ট ফুড অথবা বিভিন্ন পানীয় অনেক উপকারে আসবে । আসলে এসব খাওয়া ঠিক না এতে তুমি অসুস্থ হয়ে যেতে পার । পরীক্ষার আগে বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত যেমন বিভিন্ন ফলমুল আপেল , কমলা , কলা, দুধ কিংবা বাদাম যেগুলো তোমাকে শক্তি দিবে এবং তোমাকে পড়াশোনোতে ফোকাস করতে সাহায্য করবে । গ্রিন টি পান করতে পার এটি তোমাকে বেশী মনোযোগী হতে সাহায্য করবে । রাতের খাবার এ লাইট কিছূ খেতে পার যেমন ডাল , শাক-সবজি ইত্যাদি ।
পড়ার জায়গা বাছাই করন : তোমাকে একটা সুন্দর এবং আরামদায়ক জায়গা ঠিক করতে হবে যেখানে তুমি পড়াশোনা করবে এবং যেখানে তুমি পড়তে সাচ্ছন্দবোধ কর । মনে রাখবে এটা এতটা আরামদায়ক যেন না হয় যাতে তুমি ঘুমিয়ে পড় । এবং পড়ার টেবিলে বই ছাড়া অন্য কিছূ না রাখা, এতে তোমার মনোযোগ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে । পড়ার স্থানের যেন আলো ঠিক ঠাক মত পাওয়া যায় , কম কিংবা বেশী আলো তোমার পড়া কষ্টময় করে তুলতে পারে ।
মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপ পিসি ইত্যাদি খেকে দুরে থাকা ভালো এতে তুমি বেশি ফোকাশ করতে পারবে ।
৩। এলার্ম সেট করা : পরীক্ষার আগের রাতে অন্যতম একটা গুরুত্বপূর্ন কাজ হল এলার্ম সেট করা । তুমি সকাল বেলা কয়টায় উঠবা তা এলার্ম দিয়ে ঠিক করে রাখাও একটা গুরুত্বপুর্ন কাজ এছাড়াও পড়ার বিভিন্ন ধাপকে তুমি এলার্ম দিয়ে ভাগ করে দিতে পার যেমন, তুমি কয়টায় ঘুমাতে যাবে কিংবা কয়টায় খাবার খাবে ইত্যাদি । এমন এলার্ম সিস্টেম ব্যাবহার করবে যাতে তুমি ঠিক ভাবে উঠতে পারবে এবং যার সাউন্ড খুব কমও না হয় এবং যেন খুব বেশীও না হয় অর্থাৎ যেটাতে তুমি Comfortable ফিল কর ।
৪। পরীক্ষার সব জিনিষপএ ঠিক করে রাখা : পরীক্ষার আগের রাতেই তোমার সকল জিনিষপএ মানে পরীক্ষা কেন্দ্রে তোমার যা যা লাগবে তা সব ঠিক করে রাখা । যেমন , কলম খাতা , পেন্সিল , ইরেজার , ক্যালকুলটর ইত্যাদি । এতে সকাল বেলা তুমি পড়াশোনা কিংবা রিভাইস এর জন্য বেশী সময় পাবে ।
এখন তুমি পড়াশোনা শুরু করার জন্য রেডি ….
৫। সকল চ্যাপ্টার লিস্ট করা : তুমি যা যা পড়বে সকল চ্যাপ্টার এক যায়গায় লিস্ট করো এতে তোমার সুবিধা হল যে তুমি এক সিরিয়াল অনুযায়ী পড়তে পারবে এবং তুমি বুঝতে পারবে যে তুমি কতটুকু পড়লে । পরবর্তীতে তুমি নিজেকে যাচাইও করতে পাবে । তোমার যদি মনে হয় তুমি পূর্বে যথেষ্টে পড়েছো এবং আর পড়ার প্রয়োজন নেই তাহলে তুমি বিভিন্ন সালের স্যাম্পল প্রশ্নপএ সলভ করতে পারো ।
৬। প্রথম থেকে শুরু করা : একদম প্রথম খেকে শুরু করুন আপনার সিলেবাস এর টপিক গুলো । বেসিক থেকে শুরু করতে পারো এতে তোমার আত্ববিশ্বাস আরও বেড়ে যাবে । এবং তোমার পড়তেও সুবিধা হবে ।
One night before exams I am sure your mind works like Einstein.You can understand everything you have never understood in your class.
৭। মনে রাখার চেষ্টা না করে বোঝার চেষ্টা করা : আমরা অনেকেই না বুঝে মনে রাখার চেষ্টা করি অর্থাৎ মাথায় স্টোর করে রাখার চেস্টা করি । এতে করে বেশী টপিক হলে আমরা উল্টা পাল্টা করে ফেলি তাই কোন কিছু মনে রাখার চেষ্টা না করে বোঝার চেষ্টা করতে হবে । মুখস্থ না করা এবং বুঝে পড়ার চেষ্টা করা উচিত ।
৮। কোন কিছু না বুঝলে বাদ দেওয়া : তোমাকেে বুঝতে হবে যে তোমার হাতে অনেক কম সময় আছে । তুমি যদি নুতুন কিছূ পড়া শুরু করো তাহলে তুমি পড়া কমপ্লিট করতে পারবে না অর্থাৎ তুমি কনফিউজ হয়ে যাবে এবং এতে অনেক সময় নষ্ট হবে । তাই আগে যা পড়েছো তাই পুনরাবৃতির কর । এবং যদি তুমি পূর্বের পড়া কমপ্লিট করতে পারো নিদৃষ্ট সময়ের পূর্বে, তাহলে তুমি নতুন টপিক শুরু করতে পারো । তবে হ্যা এটা তখনই করবে যখন তুমি তোমার পূর্বের পড়া কমপ্লিট করতে পারবে ।
৯। পড়ার মাঝে ব্রেক নেওয়া : একটানা না পড়ে পড়ার মাঝে কিছুক্ষন ব্রেক নেওয়া উচিত । তুমি হালকা হাটাহাটি করতে পার কিংবা চা অথবা কফি খেতে পার কিংবা তোমার পছন্দের একটা গান শুনতে পার ইত্যাদি ।
১০। পড়ার পাশা পাশি লিখে রাখা : কি পয়েন্ট বা গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট গুলো তুমি লিখে রাখতে পার । এতে তোমার মনে রাখতে সুবিধা হবে এবং পরবর্তীতে হালকা চোখ বুলিয়ে নিলেই তোমার রিভাইস হয়ে যাবে ।
১১। গুরুত্বপূর্ন টপিক মার্ক করে রাখা : গুরুত্বপূর্ন টপিক গুলো মার্ক করে রাখতে পার এতে তোমার বুঝতে সুবিধা হবে । এজন্য আন্ডার লাইন করে রাখতে পার অথবা বিভিন্ন কালারের মার্কার ব্যাবহার করতে পারো ।
১২। প্রচুর পানি পান করা : পড়ার মাঝে প্রচুর পানি পার করতে পারো এটি তোমাকে রাতে জেগে থাকতে সাহায্য করবে এবং এতে আরও একটি সুবিধা পাবে তা হল এটি তোমাকে গ্যাস কিংবা পেটে ব্যাথা থেকে দুরে রাখবে ।
১৩। সোস্যাল মিডিয়া থেকে দুরে থাকা : বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক, টুইটার কিংবা ইউটিউব থেকে দুরে থাকা উচিত এতে অনেক সময় এবং মনোযোগ দুটো্ই নষ্ট হয় । অনেকেই ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি একাউন্ট ডি-একটিভ করে দেয় আমার মতে এটি বোকামি ছাড়া কিছুই না নিজেকে কন্ট্রোল করাটাই বড় কথা ।
১৪। রাতে পরিমান মত ঘুমানো : পড়া শেষ হলে দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করা এবং সর্ব নিম্ন ৪ থেকে ৫ ঘন্টা ঘুমানো । এতে করে সকালে তোমার মনটা ফ্রেশ থাকবে এবং সকালে পড়া রিভা্ইস দিতে পারবে এবং ভাল পরীক্ষা দিতে পারবে । অনেকে প্লান করে সারা রাত জেগে পড়াশোনা করার এতে করে যে সমস্যা হয় যে সে সারা রাত পড়াশোনা করে এবং সকালে ঘুম ঘুম অবস্থায় পরীক্ষা দিতে যায় এবং সব উল্টা পাল্টা করে ফেলে । তাই সারা রাত পড়াশোনা করা একটা খারাপ আইডিয়া ।
১৫। এবং সর্বশেষ পয়েন্ট হল চিন্তা না করে রিলাক্স করা । এবং মনে রাখবে ,
A Single Sheet of Paper Can not Decide Your Future.
আশা করি তোমরা সবাই ভাল পরীক্ষা ভালো হবে । ধন্যবাদ ..
লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার এবং লাইক দিতে ভূলবেনা এবং পরবর্তীতে এরকম আরও পোষ্ট পেতে আমাকে ফলো করতে পারো ।
Friday, March 1, 2019
২১শে ফেব্রুয়ারি । বাংলা_ভাষা_আন্দোলন ।
২১শে ফেব্রুয়ারি---
#বাংলা_ভাষা_আন্দোলন
বঙ্গীয় সমাজে বাংলা ভাষার অবস্থান নিয়ে বাঙালির আত্ম-অম্বেষায়জ যে ভাষাচেতনার উন্মেষ ঘটে, তারই সূত্র ধরে বিভাগোত্তর পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তার চরম প্রকাশ ঘটে।
বিস্তারিত
ঐদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে আবুল বরকত, আবদুল জব্বার, আবদুস সালামসহ কয়েকজন ছাত্রযুবা হতাহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ ঢাকাবাসী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে সমবেত হয়। নানা নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় রাজপথে নেমে আসে। তারা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের জন্য অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করে। ভাষাশহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারির এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৯ মে অণুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
তখন থেকে প্রতি বছর এ দিনটি জাতীয় ‘শোক দিবস’ হিসেবে উদ্যাপিত হয়ে আসছে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় ২১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা এক মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে একাধিক্রমে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষকবৃন্দ, ঢাকাস্থ বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন। এ সময় আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি গানের করুণ সুর বাজতে থাকে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একুশে ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষিত হয়। এদিন শহীদ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে রেডিও, টেলিভিশন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দেশের সংবাদপত্রগুলিও বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে।
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি যে চেতনায় উদ্দীপিত হয়ে বাঙালিরা রক্ত দিয়ে মাতৃভাষাকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, আজ তা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভ করেছে।
Subscribe to:
Comments (Atom)