Saturday, March 2, 2019

Exam Preparation | পরীক্ষা প্রস্তুতি | পরীক্ষার আগের রাতের করনীয় | What shoud you do before exam day |

পরীক্ষার আগের রাতে কি করা উচিত? পরীক্ষার আগের রাতের করনীয় ? হ্যালো বন্ধুরা আজ আমি যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করব তা হল পরীক্ষার আগের রাতে করনীয় । আমাদের অনেকের মাঝে পরীক্ষার আগে অনেক ভয় ভীতি কাজ করে যে পরীক্ষা কেমন দিব, কি সমাচার ইত্যাদি । তো আজ আমি কিছু টিপস নিয়ে আলোচনা করব যা তোমাদের পরীক্ষার আগের রাতে ভালো প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করবে । ১। আত্ববিশ্বাস : প্রথম যে জিনিষ টা প্রয়োজন তা হল আত্ববিশ্বাস । তোমার মনের মাঝে এটা বিশ্বাস থাকতে হবে যে তুমি পারবে । তোমার মনের ভিতর থেকে সকল ভয় ভীতি দুর করতে হবে । অনেকে আছে যারা এই প্রথম ধাপ টাই পার করতে পারে না ,তাই তোমাকে আত্ববিশ্বাসী হতে হবে । Trust Yourself, you know more than you think you Do. -Benjamin Sopck ২। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া : আমাদের মাঝে অনেকেই মনে করে ‍যে পরীক্ষার আগের রাতে ফাস্ট ফুড অথবা বিভিন্ন পানীয় অনেক উপকারে আসবে । আসলে এসব খাওয়া ঠিক না এতে তুমি অসুস্থ হয়ে যেতে পার । পরীক্ষার আগে বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত যেমন বিভিন্ন ফলমুল আপেল , কমলা , কলা, দুধ কিংবা বাদাম যেগুলো তোমাকে শক্তি দিবে এবং তোমাকে পড়াশোনোতে ফোকাস করতে সাহায্য করবে । গ্রিন টি পান করতে পার এটি তোমাকে বেশী মনোযোগী হতে সাহায্য করবে । রাতের খাবার এ লাইট কিছূ খেতে পার যেমন ডাল , শাক-সবজি ইত্যাদি । পড়ার জায়গা বাছাই করন : তোমাকে একটা সুন্দর এবং আরামদায়ক জায়গা ঠিক করতে হবে যেখানে তুমি পড়াশোনা করবে এবং যেখানে তুমি পড়তে সাচ্ছন্দবোধ কর । মনে রাখবে এটা এতটা আরামদায়ক যেন না হয় যাতে তুমি ঘুমিয়ে পড় । এবং পড়ার টেবিলে বই ছাড়া অন্য কিছূ না রাখা, এতে তোমার মনোযোগ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে । পড়ার স্থানের যেন আলো ঠিক ঠাক মত পাওয়া যায় , কম কিংবা বেশী আলো তোমার পড়া কষ্টময় করে তুলতে পারে । মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপ পিসি ইত্যাদি খেকে দুরে থাকা ভালো এতে তুমি বেশি ফোকাশ করতে পারবে । ৩। এলার্ম সেট করা : পরীক্ষার আগের রাতে অন্যতম একটা গুরুত্বপূর্ন কাজ হল এলার্ম সেট করা । তুমি সকাল বেলা কয়টায় উঠবা তা এলার্ম দিয়ে ঠিক করে রাখাও একটা গুরুত্বপুর্ন কাজ এছাড়াও পড়ার বিভিন্ন ধাপকে তুমি এলার্ম দিয়ে ভাগ করে দিতে পার যেমন, তুমি কয়টায় ঘুমাতে যাবে কিংবা কয়টায় খাবার খাবে ইত্যাদি । এমন এলার্ম সিস্টেম ব্যাবহার করবে যাতে তুমি ঠিক ভাবে উঠতে পারবে এবং যার সাউন্ড খুব কমও না হয় এবং যেন খুব বেশীও না হয় অর্থাৎ যেটাতে তুমি Comfortable ফিল কর । ৪। পরীক্ষার সব জিনিষপএ ঠিক করে রাখা : পরীক্ষার আগের রাতেই তোমার সকল জিনিষপএ মানে পরীক্ষা কেন্দ্রে তোমার যা যা লাগবে তা সব ঠিক করে রাখা । যেমন , কলম খাতা , পেন্সিল , ইরেজার , ক্যালকুলটর ইত্যাদি । এতে সকাল বেলা তুমি পড়াশোনা কিংবা রিভাইস এর জন্য বেশী সময় পাবে । এখন তুমি পড়াশোনা শুরু করার জন্য রেডি …. ৫। সকল চ্যাপ্টার লিস্ট করা : তুমি যা যা পড়বে সকল চ্যাপ্টার এক যায়গায় লিস্ট করো এতে তোমার সুবিধা হল যে তুমি এক সিরিয়াল অনুযায়ী পড়তে পারবে এবং তুমি বুঝতে পারবে যে তুমি কতটুকু পড়লে । পরবর্তীতে তুমি নিজেকে যাচাইও করতে পাবে । তোমার যদি মনে হয় তুমি পূর্বে যথেষ্টে পড়েছো এবং আর পড়ার প্রয়োজন নেই তাহলে তুমি বিভিন্ন সালের স্যাম্পল প্রশ্নপএ সলভ করতে পারো । ৬। প্রথম থেকে শুরু করা : একদম প্রথম খেকে শুরু করুন আপনার সিলেবাস এর টপিক গুলো । বেসিক থেকে শুরু করতে পারো এতে তোমার আত্ববিশ্বাস আরও বেড়ে যাবে । এবং তোমার পড়তেও সুবিধা হবে । One night before exams I am sure your mind works like Einstein.You can understand everything you have never understood in your class. ৭। মনে রাখার চেষ্টা না করে বোঝার চেষ্টা করা : আমরা অনেকেই না বুঝে মনে রাখার চেষ্টা করি অর্থাৎ মাথায় স্টোর করে রাখার চেস্টা করি । এতে করে বেশী টপিক হলে আমরা উল্টা পাল্টা করে ফেলি তাই কোন কিছু মনে রাখার চেষ্টা না করে বোঝার চেষ্টা করতে হবে । মুখস্থ না করা এবং বুঝে পড়ার চেষ্টা করা উচিত । ৮। কোন কিছু না বুঝলে বাদ দেওয়া : তোমাকেে বুঝতে হবে যে তোমার হাতে অনেক কম সময় আছে । তুমি যদি নুতুন কিছূ পড়া শুরু করো তাহলে তুমি পড়া কমপ্লিট করতে পারবে না অর্থাৎ তুমি কনফিউজ হয়ে যাবে এবং এতে অনেক সময় নষ্ট হবে । তাই আগে যা পড়েছো তাই পুনরাবৃতির কর । এবং যদি তুমি পূর্বের পড়া কমপ্লিট করতে পারো নিদৃষ্ট সময়ের পূর্বে, তাহলে তুমি নতুন টপিক শুরু করতে পারো । তবে হ্যা এটা তখনই করবে যখন তুমি তোমার পূর্বের পড়া কমপ্লিট করতে পারবে । ৯। পড়ার মাঝে ব্রেক নেওয়া : একটানা না পড়ে পড়ার মাঝে কিছুক্ষন ব্রেক নেওয়া উচিত । তুমি হালকা হাটাহাটি করতে পার কিংবা চা অথবা কফি খেতে পার কিংবা তোমার পছন্দের একটা গান শুনতে পার ইত্যাদি । ১০। পড়ার পাশা পাশি লিখে রাখা : কি পয়েন্ট বা গুরুত্বপূর্ন পয়েন্ট গুলো তুমি লিখে রাখতে পার । এতে তোমার মনে রাখতে সুবিধা হবে এবং পরবর্তীতে হালকা চোখ বুলিয়ে নিলেই তোমার রিভাইস হয়ে যাবে । ১১। গুরুত্বপূর্ন টপিক মার্ক করে রাখা : গুরুত্বপূর্ন টপিক গুলো মার্ক করে রাখতে পার এতে তোমার বুঝতে সুবিধা হবে । এজন্য আন্ডার লাইন করে রাখতে পার অথবা বিভিন্ন কালারের মার্কার ব্যাবহার করতে পারো । ১২। প্রচুর পানি পান করা : পড়ার মাঝে প্রচুর পানি পার করতে পারো এটি তোমাকে রাতে জেগে থাকতে সাহায্য করবে এবং এতে আরও একটি সুবিধা পাবে তা হল এটি তোমাকে গ্যাস কিংবা পেটে ব্যাথা থেকে দুরে রাখবে । ১৩। সোস্যাল মিডিয়া থেকে দুরে থাকা : বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক, টুইটার কিংবা ইউটিউব থেকে দুরে থাকা উচিত এতে অনেক সময় এবং মনোযোগ দুটো্ই নষ্ট হয় । অনেকেই ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি একাউন্ট ডি-একটিভ করে দেয় আমার মতে এটি বোকামি ছাড়া কিছুই না নিজেকে কন্ট্রোল করাটাই বড় কথা । ১৪। রাতে পরিমান মত ঘুমানো : পড়া শেষ হলে দ্রুত ঘুমানোর চেষ্টা করা এবং সর্ব নিম্ন ৪ থেকে ৫ ঘন্টা ঘুমানো । এতে করে সকালে তোমার মনটা ফ্রেশ থাকবে এবং সকালে পড়া রিভা্ইস দিতে পারবে এবং ভাল পরীক্ষা দিতে পারবে । অনেকে প্লান করে সারা রাত জেগে পড়াশোনা করার এতে করে যে সমস্যা হয় যে সে সারা রাত পড়াশোনা করে এবং সকালে ঘুম ঘুম অবস্থায় পরীক্ষা দিতে যায় এবং সব উল্টা পাল্টা করে ফেলে । তাই সারা রাত পড়াশোনা করা একটা খারাপ আইডিয়া । ১৫। এবং সর্বশেষ পয়েন্ট হল চিন্তা না করে রিলাক্স করা । এবং মনে রাখবে , A Single Sheet of Paper Can not Decide Your Future. আশা করি তোমরা সবাই ভাল পরীক্ষা ভালো হবে । ধন্যবাদ .. লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার এবং লাইক দিতে ভূলবেনা এবং পরবর্তীতে এরকম আরও পোষ্ট পেতে আমাকে ফলো করতে পারো ।

No comments:

Post a Comment