Sunday, April 21, 2019
গাভাস্কার যেদিন নিজেই আউট হয়ে যেতে চেয়েছিলেন! সুনিল গাভাস্কারের জীবনের একটি কালো দিক।
গাভাস্কার যেদিন নিজেই আউট হয়ে যেতে চেয়েছিলেন!
টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সফল ওপেনার তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিখ্যাত ‘পেস চতুষ্টয়’সহ আরও অনেক কিংবদন্তি বোলারদের সময়ে খেলে ১০ হাজারের বেশি রান। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে তাঁর সাফল্যের প্রমাণ। তবে বিশ্বকাপে এসেও যে এমন ‘টেস্ট ম্যাচ’ খেলবেন সুনীল গাভাস্কার, সেটি বোধ হয় ভাবতে পারেননি কেউই। বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ম্যাচেই গাভাস্কার এমন এক ইনিংস খেলেছিলেন, পারলে নিজে ইতিহাসের পৃষ্ঠা থেকে সেই ঘটনা চিরতরে মুছে ফেলেন!
মূল গল্পে যাওয়ার আগে একটু প্রেক্ষাপট বলে নেওয়া দরকার। টেস্ট ক্রিকেটের প্রায় এক শ বছর পর শুরু হয় ওয়ানডে। ১৯৭১ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের চার বছরের মাথায় শুরু হয়ে গেল বিশ্বকাপ। ১৯৭৫ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আগে ইংল্যান্ড ছাড়া অন্য দলগুলোর তাই ওয়ানডে ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা বলতে গেলে ছিলই না। ৭ জুন লর্ডসে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ খেলার সৌভাগ্য হয়েছিল ভারতের। কিন্তু এর আগে তারা ওয়ানডে খেলতে পেরেছিলই মোটে দুটি।
দারুণ আবহাওয়া ও ব্যাটিং উইকেটে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে ইংল্যান্ড। ওপেনার ডেনিস অ্যামিসের ১৪৭ বলে ১৩৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে ৬০ ওভারে ৪ উইকেটে তোলে ৩৩৪ রান। জয়ের জন্য লক্ষ্যটা একটু বেশি হয়ে গেলেও ভারতের হাল ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ ছিল না। তাদের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ছিলেন সুনীল গাভাস্কার।
সেই গাভাস্কারই এমন ব্যাটিং করলেন, যেটি নিয়ে কথা উঠলে লিটল মাস্টার নিজেই লজ্জায় লাল হয়ে যান। শুরুতে মনে হচ্ছিল, নতুন বলের সুইং কাটিয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলে কিছুটা ধীরগতিতে ব্যাট করছেন। কিন্তু সময় গড়াতে থাকলেও গাভাস্কারের ব্যাট চলতে লাগল সেই শম্বুক গতিতেই। শেষ পর্যন্ত পুরো ৬০ ওভার উইকেটে থেকে গাভাস্কারের রান দাঁড়াল ১৭৪ বলে অপরাজিত ৩৬! গাভাস্কারের এমন মন্থর ব্যাটিংয়ের ছাপ পড়ল ভারতের স্কোরকার্ডেও। মাত্র ৩ উইকেট হারালেও ৬০ ওভারে তাদের সংগ্রহ দাঁড়াল ১৩২ রান! হাতে ৭ উইকেট রেখেও ২০২ রানের বিশাল পরাজয়।
সব ছাপিয়ে আলোচনায় গাভাস্কারের এই ইনিংস। ভারত এর আগে ওয়ানডে তেমন খেলেনি, এই যুক্তিতেও গাভাস্কারকে আড়াল করা যায়নি। ওই ম্যাচেই তো ইংল্যান্ড ওয়ানডে ব্যাটিংটা দেখিয়ে দিয়েছিল। এর মধ্যে ক্রিস ওল্ডই তো এখনকার ‘আন্দ্রে রাসেল’টাইপ ইনিংস খেলেছিলেন ৩০ বলে ৫১ রান করেন।
ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হলো তাঁর সমালোচনা। সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার ডেনিস কম্পটন বললেন, ‘ভারতীয়রা এ রকম করুণ ব্যাটিং করবে, এটা কেউই আশা করেনি। আর এর মূল দায়টা নিতে হবে গাভাস্কারকেই।’ কিন্তু অমন আশ্চর্য মন্থর ব্যাটিংয়ের রহস্য কী? ম্যাচ শেষে এক বিবৃতিতে ভারতীয় দলের ম্যানেজার জি এস রামচাঁদ বললেন, ‘ইংল্যান্ডের দেওয়া লক্ষ্যকে অনতিক্রম্য মনে করেছিলেন গাভাস্কার, তাই পরের ম্যাচগুলোর জন্য ব্যাটিং অনুশীলন করে নিয়েছেন এই ম্যাচে।’ বলাই বাহুল্য, রামচাঁদের এই খোঁড়া যুক্তি মন ভরাতে পারেনি কারও।
তবে দুই দিন পরই রামচাঁদের বিবৃতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেল। ডেইলি এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রীতিমতো ধুয়ে দিলেন গাভাস্কারকে, ‘আমার দেখা সবচেয়ে লজ্জাজনক ও স্বার্থপর ইনিংস ছিল সেদিনের ইনিংসটি। সে (গাভাস্কার) আমাকে এসে বলেছিল, উইকেট শট খেলার জন্য খুব ধীর ছিল। কিন্তু ঠিক আগের ইনিংসেই ইংল্যান্ড ৩৩৪ রান করে যাওয়ার পরে এই যুক্তি কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। পুরো দল এ ঘটনায় বিব্রত। আমাদের জাতীয় মর্যাদা এভাবে ধুলায় মিশে যেতে পারে না।’
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment